সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১২ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ০৭,২০২০, ১০:৩৮

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০২

ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে হতে পারে কঠিন রোগ

দেহের অতি প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর একটি হলো ভিটামিন ‘ডি’। এর মাত্রা সঠিক না থাকলে কঠিন রোগ হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি। অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ করা, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়াম দ্রবীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করে এই গ্রুপের ভিটামিন। বিশেষ করে ইমুইন সিস্টেমকে শক্তিশালী রাখে বলে ক্ষতিকর ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াগুলোকেও রুখতে সক্ষম হয়। এছাড়া হাড় ও দাঁতের সুরক্ষা, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ নানা রোগের ঝুঁকি কমাতে এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু অনেক সময় অজ্ঞাতেই শরীরে অতি প্রয়োজনীয় এই ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি বা ডিফিসিয়েন্সি ঘটে। তখন দেখা দেয় নানা বিপত্তি, শরীরে বাসা বাঁধে জটিল কিছু রোগ। সারা বিশ্বে প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ এই ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতিজনিত সমস্যায় রয়েছে। আমেরিকায় ২০১১ সালের গবেষণা থেকে জানা যায়, ৪২ শতাংশ মানুষ ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে ভুগছে, যার মধ্যে হিসপানিক ৭০ শতাংশ এবং আফ্রিকান-আমেরিকান ৮২ শতাংশ। ঝুঁকি বেশি যাদের বয়স, অবস্থাভেদে এবং নানা কারণে দেহে ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি হতে পারে। এই ঘাটতিজনিত ঝুঁকিতে যারা থাকে তাদের মধ্যে—

  • কালো চামড়াসম্পন্ন লোক।
  • বৃদ্ধ লোক, অধিক স্থূল বা বেশি ওজনসম্পন্ন ব্যক্তি।
  • বেশি মাত্রায় ঘরে বসে কাজ করা বা অবস্থান করা ব্যক্তি।
  • সব সময় এসিতে বসবাসকারী।
  • শরীরে রোদ লাগায় না, বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহারকারী বা সূর্যের আলো কম পায় এমন দেশের মানুষ।
  • অপর্যাপ্ত মাছ, দুধ বা ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণকারী।
  • পরিপাকতন্ত্রের অসুখে ভোগা রোগী।
  • দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগী।

অভাবজনিত সমস্যা আগে মনে করা হতো ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে শুধুই হাড়ের সমস্যা দেখা দেয়। তবে দেখা গেছে, শুধু হাড় নয়, আরো অনেক রোগের সঙ্গেই ভিটামিন ‘ডি’র সম্পর্ক রয়েছে; যেমন—

  • ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয়। ফলে পেশি দুর্বল, হাড় ভঙ্গুর বা ক্ষয় হয়।
  • ইনফেকশন বেড়ে যায়, কাটা বা ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হয়।
  • সর্দি-কাশি, টনসিলের প্রদাহ, শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়।
  • বিষণ্নতা, ক্লান্তি ও অবসাদে ভোগে, কাজে অনীহা আসে।
  • বাত ব্যথা, বিশেষ করে ব্যাক পেইন বা পেছনের দিকে ব্যথা হয়।
  • কিডনি রোগীদের জটিলতা বাড়ে।
  • উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস ইত্যাদির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • শিশুদের শরীরের হাড়গুলো ঠিকমতো বৃদ্ধি পায় না। তাদের হাড় নরম বা ভঙ্গুর অথবা বেঁকে যায় (রিকেটস), বড়দের হাড়ের গঠনে বিকৃতি (অস্টিওম্যালেশিয়া) দেখা দেয়।
  • তীব্র হাঁপানি (অ্যাজমা), দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের সংক্রমণ হয়।
  • গর্ভধারণে জটিলতা বাড়ে।
  • ত্বকের রোগ সোরিয়াসিস বা ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে।
  • কারো কারো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চুল পড়ে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
  • মস্তিষ্কের স্মৃতিধারণ ক্ষমতা বা কগনেটিভ ফাংশন অব মেমোরি কমে যায়। স্মৃতিভ্রংশ (আলঝেইমার) হয় বা স্মৃতিশক্তি লোপ পায়।
  • যারা পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণ করে না তাদের মৃত্যুর হার বেশি।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ