সোমবার ৩০ মার্চ ২০২০

১৬ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২৩,২০২০, ১০:১৬

মার্চ ২৩,২০২০, ১০:১৬

করোনা ভাইরাস আতঙ্ক নয় সচেতনতা জরুরি

আমরা এক ভয়ঙ্কর সময় অতিক্রম করছি। আমরা বলতে গোটা বিশ্ববাসীই। ছড়িয়ে পড়া করোনা রূপ নিতে পারে এখন বৈশ্বিক মহামারিতে। তাই এর প্রতিরোধ এবং ব্যবস্থাপনাও হতে হবে বিশ্বব্যাপী সমন্বিতভাবে। এসময় সাহস, সচেতনতা, সতর্কতাই সবচেয়ে আগে দরকার।

রোগ প্রতিরোধে সর্বাত্মক আত্মনিয়োগ করা চাই। এসময় যিনি আতঙ্ক ছড়াবেন তিনি সঠিক কাজ যে করবেন না সেটি বলাই বাহুল্য। তাই আতঙ্ক না ছড়িয়ে মানুষের মাঝে মনোবল বাড়ানোর কাজ এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার দিন থেকেই রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা রাখছেন। প্রায় প্রতিদিনই এমন কিছু বক্তব্য দিয়ে চলেছেন যা দিকনির্দেশনামূলক। দেশবাসীকে সাহস যোগাচ্ছেন এই ভয়ঙ্কর ভাইরাস থেকে নিজেদের সুরক্ষায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় তিনি আবারো অত্যন্ত সময়োপযোগী বক্তব্য দিয়ে আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্যানিক (আতঙ্ক) করবেন না, শক্ত থাকেন, সচেতন হোন। সহযোগিতার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এটা স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রীর মূল বার্তা হলো প্রতিরোধ করতে হবে, কাজও করতে হবে।

আলোচিত ভাইরাসটি দেশের সীমানার বাইরে থেকে আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে। তাই বিদেশফেরতদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিজ ঘরে একা অর্থাৎ সঙ্গরোধ বা কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি বিদেশফেরত ব্যক্তি ভাইরাসটি বহন করে নিয়ে আসেন তবে নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরেই রোগের লক্ষণ ফুটে উঠবে। তিনি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে যাবেন।

পক্ষান্তরে তিনি যদি ঢালাওভাবে মেলামেশা করেন তবে তার সংস্পর্শে থাকা অন্যরাও একই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকবেন। এভাবে দুই থেকে চার, চার থেকে আট জ্যামিতিক হারে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে। তখন আর রেহাই মিলবে না।

কেননা, রোগ হলে চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। সে জন্য পর্যাপ্ত সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা চাই। সে জন্যই বলা হচ্ছে রোগ হলে রোগ লুকিয়ে না রেখে অন্যকে সুস্থ রখার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। এই সচেতনতাটুকু আমরা চাই।

সংখ্যায় কম হলেও বাংলাদেশে কভিড-১৯ বা নোভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, ইতালিফেরত এক ব্যক্তির পরিবারের তিন সদস্যের মধ্যে নোভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ২৭ জনে। এছাড়াও আরও অনেক লোক রয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে।

আমরা বিশ্বাস করি, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় একে অপরের পাশে এসে দাঁড়াব, সহযোগিতা ও সচেতন করে তোলায় ভূমিকা রাখব এবং করোনা ভাইরাস মোকাবিলায়ও বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবো।

স্বেচ্ছা সঙ্গনিরোধ নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগেরও বিকল্প নেই। প্রশাসন ছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা যাতে সমাজে আতঙ্ক না ছড়ায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

আমারসংবাদ/এআই