মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০

১২ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট সংস্করণ

অক্টোবর ১৮,২০২০, ১২:৪৬

অক্টোবর ১৮,২০২০, ১২:৪৬

বিশ্বে নন্দিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশ। সুপ্রাচীনকাল থেকেই যে দেশের মানুষের মধ্যে ধর্ম চর্চার পাশাপাশি লালিত হয়ে আসছে ইসলামি আদর্শ ও মূল্যবোধ। ইসলামের সেই সমুন্নত আদর্শ আর মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। বর্তমান মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংস্থা হিসেবে নন্দিত।

প্রতিষ্ঠার বছরই ইসলামিক ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট প্রণয়নের মাধ্যমে এর কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে অ্যাক্ট অনুযায়ী বেশকিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্থির করে ইফা। যার প্রতিটি লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন চলতি বছরের শুরুর দিকে দায়িত্ব গ্রহণ করা ইফার বর্তমান মহাপরিচালক সরকারের অতিরিক্ত সচিব আনিস মাহমুদ।

যিনি চাকরিজীবনের শুরুতেই সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সহকারী সচিব হিসেবে যোগ দেয়ার পর পর্যায়ক্রমে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সিনিয়র সহকারী সচিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপ-সচিব, জেলা প্রশাসক, যুগ্মসচিব ও সর্বশেষ ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সুদীর্ঘ চাকরিজীবনে নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে মাঠপর্যায়ের কাজের পাশাপাশি  সচিবালয়সহ সরকারের বহুমুখী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে নিজেকে বিকশিত করে সরকারের আস্থা অর্জনে সক্ষম হওয়ায় মুজিববর্ষের উপহার স্বরূপ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে তাকে পদায়ন করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন এ সংস্থার দায়িত্ব গ্রহণ করেই মন্ত্রণালয় এবং প্রয়াত ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহর নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্থার কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার যে প্রচেষ্টায় ছিলেন নতুন মহাপরিচালক, অব্যাহত সেই প্রচেষ্টার মধ্যেই অভিভাবকের মৃত্যুতে যে ক্ষতি হয়েছে, অভিভাবক হারানোর সেই বিশাল ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।

তবুও প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ ত্বরান্বিত করার যে ভূমিকা রেখে গেছেন প্রয়াত মন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ তারই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইফার কার্যক্রমকে স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে নিচ্ছেন আনিস মাহমুদ।

সরকারের বহুমুখী দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকেই ইফার প্রধান কার্যালয় ছাড়াও বায়তুল মোকাররমস্থ অফিসে প্রধান কার্যালয়ের একাধিক বিভাগীয় কার্যালয়সহ কেন্দ্রীয়ভাবে ১৭টি বিভাগ, সাতটি প্রকল্প, একটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, মাঠপর্যায়ে আটটি বিভাগীয়সহ ৬৪টি জেলা কার্যালয় এবং আর্তমানবতার সেবায় ৫০টি ইসলামিক মিশন কেন্দ্র, সাতটি ইমাম প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির মাধ্যমে সারা দেশে তিনি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন নানামুখী কার্যক্রম।  

জানা গেছে, ৮৪ হাজার ২৫৩ সংখ্যক জনবল নিয়ে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের নবম ব্যাচের সদস্য আনিস মাহমুদ মসজিদ ও ইসলামি কেন্দ্র, অ্যাকাডেমি-ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণ, অ্যাকাডেমি ও  ইনস্টিটিউট এবং সমাজসেবায় নিবেদিত সংগঠনসমূহকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, সংস্কৃতি, চিন্তা, বিজ্ঞান ও সভ্যতার ক্ষেত্রে ইসলামের অবদানের ওপর গবেষণা পরিচালনা, ইসলামের মৌলিক আদর্শ বিশ্ব-ভ্রাতৃত্ববোধ, পরমতসহিষ্ণুতা, ন্যায়বিচার প্রভৃতি প্রচার, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে ইসলামি মূল্যবোধ ও ইফার নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপেরও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তিনি।  

এছাড়াও ইসলামি মূল্যবোধ ও নীতিমালা জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কিত গবেষণার আয়োজন ও তার প্রসার এবং জনপ্রিয় ইসলামি সাহিত্য সুলভে প্রকাশসহ সেসবের বিলি-বণ্টন, ইসলাম ও ইসলামের বিষয় সম্পর্কিত বই-পুস্তক, সাময়িকী ও প্রচার পুস্তিকা অনুবাদ, সংকলন ও প্রকাশ, ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিষয়াদির ওপর সম্মেলন, বক্তৃতামালা, বিতর্ক ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন ছাড়াও ইসলামবিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য পুরস্কার ও পদক প্রবর্তন, ইসলাম সম্পর্কিত প্রকল্পের উদ্যোগ, প্রকল্প গ্রহণ করা কিংবা তাতে সহায়তা, ইসলামবিষয়ক গবেষণার জন্য বৃত্তি প্রদান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের ব্যবস্থাপনা ও উন্নতিবিধান এবং সার্বিক কার্যাবলির ক্ষেত্রে আনুষাঙ্গিক বা আপতিক ইফার সকল কাজও সম্পাদন হচ্ছে তার নেতৃত্বে।  

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইফার দায়িত্ব গ্রহণ করেই আনিস মাহমুদ ই-নথি চালু, পরিচ্ছন্ন কর্মপরিবেশ, শৃঙ্খলা ও বিধি-বিধানের আলোকে কাজ করার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা প্রদান করেন এবং তার নির্দেশনার আলোকেই ইফার সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে নতুন এ মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সম্পূর্ণ নতুন উদ্যমে নতুন কর্মপরিকল্পনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সার্বিক কার্যক্রম চলছে স্বচ্ছতার সঙ্গে এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও আগের তুলনায় বর্তমান ইফার সার্বিক কার্যক্রমে গতিশীলতাও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকটাই— বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমারসংবাদ/এসটিএম