সোমবার ০৬ এপ্রিল ২০২০

২৩ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ০৮,২০২০, ০২:৩৬

মার্চ ০৮,২০২০, ০২:৩৬

কর্মজীবীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বেসরকারি খাতেও ৬ মাস করা হোক

পোশাক শিল্পসহ সব প্রাইভেট সেক্টরে ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন। তারা বলছে, সরকার পাবলিক সেক্টরের মাতৃত্বকালীন ছুটি ইতোমধ্যে ছয় মাস ঘোষণা ও কার্যকর করেছে।

কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক মূল চালিকাশক্তি গার্মেন্টস সেক্টরসহ সব প্রাইভেট সেক্টরে এই ছুটি এখনও চার মাস। তাই গার্মেন্টস সেক্টরসহ সব প্রাইভেট সেক্টরে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার দাবি জানান তারা।

এখানে উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে শিশুকে ছয় মাস পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং শিশুর সার্বিক পরিচর্যার জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

পরে ২০১১ সালের নভেম্বরে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সরকারি চাকরিতে কর্মরত নারীরা এখন এ ছুটি ভোগ করছেন, তার আগে তারা ছুটি পেতেন চার মাস। সরকারি চাকরি বিধি (পার্ট-১) ১৯৭ ধারার উপধারা ১ সংশোধন করে এ বিধান করা হয়েছে।

তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। যে কারণে বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত নারীরা চার মাসের ছুটিই ভোগ করেন।

তবে এখানে একটি ‘কিন্তু’ রয়ে গেছে। দেশের অধিকাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সরকার ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হচ্ছে না।

পোশাক কারখানাতে শ্রম আইন অনুযায়ী বেতনসহ চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার কথা থাকলেও গার্মেন্ট মালিকরা তা মানছেন না। অন্যদিকে দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ছয় মাসের ছুটি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও দেওয়া হচ্ছে তিন মাসের ছুটি।

ফলে নিজের ও তার সন্তানের ক্ষতি হলেও কাজ হারানোর ভয়ে নারী কর্মী ও শ্রমিকরা কষ্ট সয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে মা ও নবজাতক উভয়ের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।

এছাড়া অধিকাংশ পোশাক শ্রমিককে মাতৃত্বকালীন ছুটি না দেওয়ায় সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় নারী শ্রমিকদের অনেককেই কাজ ছেড়ে দিতে হচ্ছে। আবার অনেকে অল্প দিনের ছুটি পেলেও পুরোপুরি সুস্থ না হয়েই তারা সদ্য নবজাতককে ঘরে রেখে কাজে ফিরছেন। এতে মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে।

কিছু কারখানায় আবার এক-দুই মাসের ছুটি দেওয়া হলেও বেতন দেওয়া হয় না। ২০০৬ সালের শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকরা বেতনসহ চার মাসের ছুটি পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক মালিক এ শর্ত মানছেন না।

পোশাক শ্রমিকরা তাদের তথা বেসরকারি খাতে কর্মরত নরীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার যে দাবি জানাচ্ছেন তা সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে সঙ্গতই মনে হয়। দেখা গেছে বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশেও মাতৃমৃত্যুর শতকরা হার বেশি।

এর প্রধান কারণ গর্ভধারণের পূর্বে তার শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি, রক্তের উপাদান থাকে না। সন্তান গর্ভে ধারণকালে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সেবাও সে পায় না।

ফলে জন্মদান কালে মা বা শিশু মৃত্যুর মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে যায়। সন্তান জন্মের পরও মায়ের স্বাস্থ্যহানিতার কারণে চাহিদা মতো দুধ পানেও শিশুটি ব্যর্থ হয়।

এর প্রধান কারণ হচ্ছে পরিবারে কন্যা সন্তানের প্রতি অবহেলা, বঞ্চনা, বৈষম্য ইত্যাদি। তার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রেও যদি এই অবহেলা-বঞ্চনার সৃষ্টি হয় তা নিতান্তই হতাশাব্যাঞ্জক।

একজন চাকরিজীবী মা সন্তান জন্ম দেবার পর সাত আট ঘণ্টা অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে কাজের ব্যস্ততায় থাকার কারণে নিজের তো নয়ই, সন্তানের যত্ন বা বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা নিতে পারেন না, যা কিনা শিশুর শরীর গঠন বা জীবন রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি। তাই নারীর কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বের প্রতি সহানুভূতি আশা করা যেতেই পারে।

ছয় মাসের ছুটি জরুরি মায়ের স্বাস্থ্য উদ্ধার এবং সন্তানের প্রাথমিক লালন-পালনের জন্য। তাই সরকারি চাকরিজীবী নারীদের পাশাপাশি আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি, ব্যাংক-বিমা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার বিষয়টি ভেবে দেখা উচিৎ।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ