মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০

১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ২৬,২০২০, ১১:৫৪

জুলাই ২৬,২০২০, ১১:৫৪

তৈরি পোশাক খাতে সংকট করোনাকালে মানবিক হতে হবে

গার্মেন্ট বা পোশাক শিল্প এখন পর্যন্ত দেশের প্রধান রপ্তানি খাত। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার দিক থেকেও  এটি শীর্ষস্থানে। অন্যদিকে একে সবচেয়ে সমস্যাগ্রস্ত খাতও বলা চলে।

শ্রমিক অসন্তোষ, বিশেষ করে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধ-সংক্রান্ত জটিলতা লেগেই আছে। নানা অব্যবস্থার কারণে আমাদের পোশাক শিল্প এখনো বড় ধরনের ইমেজ সংকটে রয়েছে।

এবারের সমস্যাটি ভিন্নতর। একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু এপ্রিল-মে মাসে দেশের বিজিএমইএর সদস্য এমন ৩৪৮টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। তিন লাখ ২৪ হাজারেরও বেশি শ্রমিক বেকার।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। মহামারির পর সব মিলিয়ে পোশাক শিল্পে ৩১৮ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়। সেই পরিস্থিতি কেটে যেতে শুরু করেছে। এপ্রিলে মাত্র ৩৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়।

পরের মাসে তা ১২৩ কোটি ডলারে ওঠে। জুনে তা আরো বেড়ে ২২৫ কোটি ডলারে পৌঁছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনে ৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

অন্যদিকে মহামারিতে বিপুলসংখ্যক ক্রয়াদেশ স্থগিত ও বাতিল হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন দিতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের বড় অংশই নিয়েছেন পোশাকশিল্প মালিকরা।

৫ এপ্রিল সরকার এই খাতের চলতি মূলধনের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করে। শ্রমিকদের জুন মাসের মজুরি দিতে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা আড়াই হাজার কোটি টাকা পেয়েছেন জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে। এসব প্রণোদনা স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণ হিসেবে নিতে পারছেন তারা।

এছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল ১৫০ কোটি ডলার বাড়িয়ে ৫০০ কোটি ডলার করা হয়েছে, যেখান থেকে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা ২ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও লে অফ কারখানার জন্য ৩০ কোটি ইউরোর একটি তহবিল গঠন করেছে, যেখান থেকে ১১ কোটি ৩০ লাখ ইউরো যাবে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ।

সব মিলিয়ে পোশাক খাতের দুঃসময়ও আস্তে আস্তে কেটে যেতে শুরু করেছে। এসব কিছুর পরও পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা মানবিক হতে পারছেন না বলে মনে করেন শ্রমিকরা।

আমাদের প্রত্যাশা, তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা এই করোনাকালে বেতন-ভাতাসহ শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধে আন্তরিক ও মানবিক হবেন।

আমারসংবাদ/এআই