মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০

২০ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ০৬,২০২০, ০৩:৪৪

ফেব্রুয়ারি ২৯,২০২০, ১২:২১

পদ্মাসেতু দেখতে মাত্র ৬টি পিলার বাকি!

সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে  ৪ ও ৫ নাম্বার পিলারে আরো একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। মাওয়া প্রান্তে পদ্মাসেতুর ৪ ও ৫ নম্বর পিলারে বসানো হয়েছে ২১তম এই স্প্যানটি।

এর মধ্য দিয়ে সেতুটি ৩ হাজার ১৫০ মিটার লম্বা কাঠামোতে রূপ নিয়েছে। যা সেতুর মোট কাঠামোর অর্ধেকেরও বেশি। চলতি মাসে আরও তিনটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে সেতু নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের।

নানা জটিলতা কাটিয়ে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। ২০১৭ সালে নদীর গভীরতার কারণে সেতুর ১৪টি পিলারের নকশা পরিবর্তন করা হয়। মোট ৪২ টি পিলারের মধ্যে ৩৬টি পিলারের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে আর মাত্র ৬ টি পিলার (৮, ১০, ১১, ২৬, ২৭, এবং ২৯ )।

এই ৬টি পিলারের কাজ শেষ হলেই দৃশ্যমান স্বপ্নের পদ্মাসেতু। সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জটিল ছিল ৬ ও ৭ নম্বর পিলার। ৪ বছর আগে এ দুটি পিলারে জটিলতা দেখা দেয়ায় শেষ পর্যন্ত পদ্মাসেতু হবে কিনা, তা নিয়েই দেখা দেয় অনিশ্চয়তা।

বিশ্বে এর আগে কোথাও হয়নি- এমন একটি পদ্ধতিতে এ দুটি পিলারের জটিলতা কাটিয়ে শতভাগ কাজ শেষ করতে পারাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, জানুয়ারি মাস থেকে প্রতিমাসে ৩ টি করে স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসেবে চলতি বছরেই শেষ হয়ে যাবে সেতুর সবগুলো স্প্যান বসানোর কাজ।

এদিকে, সেতুর সড়ক পথে ২ হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসে গড়ে উঠবে। আর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে ২ হাজার ৯৫৯টি। যে কাজও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। পদ্মামূল সেতু নির্মাণে কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। ২০২১ সালের জুনে সেতুর সব কাজ শেষ হলে তখনই যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

এর নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এক শতাংশ সুদে আগামী ৩৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ হবে।

আমারসংবাদ/এমএআই