সোমবার ০৬ এপ্রিল ২০২০

২৩ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

শাহ আলম নূর

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২৩,২০২০, ০১:০১

মার্চ ২৩,২০২০, ০১:০১

তারকা হোটেলগুলো অতিথিশূন্য

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে দেশের সেবা খাত। এই ভাইরাসের কারণে দেশের সেবা ক্ষাতের ক্ষতি প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকা।

বছরের এ সময়টা যখন দেশি-বিদেশি অতিথিদের সেবায় ব্যস্ত থাকার কথা ঠিক তখনই সেবা খাতের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠনসমূহ প্রতিদিন গুনছে ব্যাপক পরিমাণ ক্ষতি।

এ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নভেল করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিভিন্ন দেশ। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় একের পর এক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পাশাপাশি করোনার প্রভাব পড়ছে অভ্যন্তরীণ রুটেও। এতে অন্যান্য সেবা খাতের সাথে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনছে দেশের এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলো।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে মোট কর্মসংস্থানের ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে সেবা খাতে। কৃষি খাতে ৪০ দশমিক ৪ এবং শিল্প খাতে এ অর্জন ২০ দশমিক ৪ শতাংশ। সেবা খাত মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৫৬ শতাংশ অবদান রাখছে। করোনা ভাইরাসের
কারণে অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে গেছে চীনের বিভিন্ন রুটের ফ্লাইট পরিচালনা।

এছাড়া প্রথম ওমরাহ ও ভিজিটর ভিসা বন্ধের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। এতে বাংলাদেশের প্রায় ১৬ হাজার ওমরাহ যাত্রীর সৌদি যাত্রা বাতিল হয়। ফলে বাধ্য হয়ে এসব যাত্রীদের টিকিটের মূল্য ফেরত দিয়েছে কোম্পানিগুলো।

সাম্প্রতিক সময়ে একে একে বন্ধ হয় কুয়েত, কাতার, নেপাল, ভারত ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ। একই সঙ্গে ইউরোপের সেনজেনভুক্ত ২৬টি দেশের অন-অ্যারাইভাল ভিসা ও ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ।

অর্থাৎ করোনার প্রভাবে ৩৮টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে বাংলাদেশের। তবে ফ্লাইট বন্ধ হওয়া এসব দেশের সঙ্গে শুধু বাংলাদেশই নয়, অন্যান্য দেশের ফ্লাইটও বন্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের কোনো এয়ারলাইন্স কোম্পানির ফ্লাইট নেই। ফলে সে প্রভাব পড়েনি।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, করোনো ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ফ্লাইট বাতিল ও টিকিটের মূল্য ফেরত দেয়ায় শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্ষতি হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা।

তবে করোনার প্রভাব যত দীর্ঘ হবে ক্ষতি তত বাড়বে। এছাড়া বেসরকারি কোম্পানিগুলোর আয় ৩০-৫০ শতাংশ কমেছে। এ খাতে লোকসান আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হোটেল স্যারিনার নির্বাহী পরিচালক মাশকুর সারওয়ার বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। ক্রমাগত তাদের অতিথি কমছে। একই সঙ্গে পুরনো বুকিং বাতিল হচ্ছে। অপরদিকে নতুন কোনো বুকিং হচ্ছে না। দেশের প্রায় সব হোটেলেই এ অবস্থা বিরাজ করছে বলে তিনি জানান। অবস্থার উন্নতি না ঘটলে বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়তে হবে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বিদেশি অতিথিদের বেশির ভাগই আসেন চীন, জাপান, ভারত, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও শ্রীলঙ্কা থেকে।

সাধারণত বছরের এ সময়ে ৭০ শতাংশের বেশি রুমে অতিথি থাকলেও করোনার প্রভাবে সেটি ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কার্যত সারাবিশ্ব বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এ কারণে অতিথি আসছেন না।বরং সবাই আটকা পড়ার ভয়ে নিজ থেকে ফিরে যাচ্ছেন। আগামী এপ্রিল পর্যন্ত এ পরিস্থিতি থাকলে হোটেলগুলো একেবারেই অতিথিশূন্য হয়ে পড়বে।


বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিহা) সচিব মহসিন হক হিমেল বলেন, সংগঠনের সদস্য হোটেলগুলো থেকে তথ্য আসছে যে, অতিথির সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। আয় কমে গেছে। ফলে হোটেল পরিচালনায় লোকসান হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় সংকট আরও বাড়ছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে হোটেলগুলো একেবারে অতিথিশূন্য হয়ে পড়বে।

এক তথ্যে দেখা যায়, সারা দেশে তারকা হোটেলের সংখ্যা প্রায় ৪৫টি। সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত হোটেলগুলোয় অতিথির চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি। বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে জানুয়ারি মাস থেকে তারকা হোটেলগুলোতে অতিথিদের আগাম বুকিং বাতিলের হিড়িক পড়ে।

একইসঙ্গে কমতে থাকে নতুন করে অতিথি বুকিং। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, করোনা ভাইরাসে গত এক সপ্তাহে কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে।

এতে বিমানের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। শুধু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটেই নয়, করোনার প্রভাব পড়ছে অভ্যন্তরীণ রুটেও। যাত্রী না থাকায় প্রায় প্রতিটি রুটেই ফ্লাইট কমানো হয়েছে। অন্যান্য রুটে ফ্লাইট থাকলেও সেগুলো ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছে।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের একটি বড় মার্কেট হচ্ছে চায়নার গুয়াংজু, কলকাতা, চেন্নাই ও দোহা। এসব এয়ারপোর্টগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আমাদের ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। করোনায় ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে বলা না গেলেও ধারণা করছি, আমাদের প্রায় ৫০ শতাংশ আয় কমেছে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ