রবিবার ০৫ জুলাই ২০২০

২১ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

জুন ২৯,২০২০, ১০:১৪

জুন ২৯,২০২০, ১০:১৪

করোনা বাজেটে কার লাভ

বিশ্বের ২১৩টি দেশের মতো করোনা ভাইরাস মহামারি ভয়াবহ আকার ধারণ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অল্প সময়ে একেবারে স্থবির করে দিয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি আট থেকে ৫-এ নামিয়েছে। তা মোকাবিলা করে উন্নয়নের ধারায় যেতে অর্থমন্ত্রী রেকর্ড ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার নতুন বাজেট পেশ করেছেন।

এ ব্যাপারে আজ সংসদে সমাপনী আলোচনা হবে এবং আগামীকাল পাস হবে। ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা আয় হবে। এ আয় করতে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো-কমানো হয়েছে। একই সাথে কালো টাকা সাদা করার মতো অনৈতিক আশ্রয়ও নেয়া হয়েছে। ঘাটতি থাকবে এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সারা দেশের মানুষের জন্য এতো টাকা আয়-ব্যয়ের হিসাব।

তারপরও নিম্নবিত্তরা কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না। মন্দা ঠেকাতে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকের জন্য বাজেটে বিশাল আকারে শুল্ক কমানো হয়েছে। কিন্তু সেই কৃষকরা জানছেন না তাদের সুবিধার কথা। কম দামে পণ্য কিনতে পারছেন না। ব্যবসা চাঙ্গা করতে বিভিন্ন পণ্যে শুল্কও কমানো হয়েছে। তারপরও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থমন্ত্রী বছরের আয়-ব্যয় প্রকাশ করেছেন। আমরা কোনো সুবিধা পাচ্ছি না।

অপরদিকে অর্থনীতিবদরাও বলছেন, চ্যালেঞ্জের বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, বাজেট কৃষকদের সুবিধার কথা বলা হলেও তারা পাচ্ছে না। আইন প্রণেতারা বলছেন, দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার বাজেট পেশ করা হয়েছে। বাজেট পরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বললে তারা এমনই অভিমত প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন সিনিয়র রিপোর্টার জাহাঙ্গীর আলম

সবই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে: রিক্সাওয়ালা রফিক (বরিশাল)
হোটেলে কাজ করতাম। কিন্তু করোনার কারণে সব বন্ধ। বেকার হয়ে গেলেও কিন্তু পেট বন্ধ থাকে না। তাই রিক্সা চালাচ্ছি। আয় একেবারে নেই। পরিবার নিয়ে চরম বিপদে থাকছি ঢাকার মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে।

তারপরও সরকার থেকে কোনো সুযোগ পাইনি। এমনকি বাজেটের পরও কোনো সুবিধা পাইনি। ৪৫ টাকা কেজি মোটা চাল কিনতে হচ্ছে। ডাল, তেল, আটার দামও বেশি। চলতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। এভাবেই বাজেটের ব্যাপারে নিজের ক্ষোভের কথা জানান বরিশালের কোতোয়ালি থানার রফিক।

রফিক আরও বলেন, টিভি ও পেপারে দেখছি গরিবের জন্য নাকি অনেক সুবিধা দেয়া হয়েছে বাজেটে। তাহলে আমরা পাচ্ছি না। সবই বড় লোকের জন্য। আমরা বাঁচি আর মরি তাতে কার কি? বাজেট আমাদের জন্য না। যদি তাই হতো তা হলে কিছু সুবিধাতো পেতাম বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ীর পেটেই যাচ্ছে কৃষকের সুবিধা : কৃষক তাহের আলী (দিনাজপুর)
করোনায় সবকিছু স্থবির হয়ে গেছে। তাই খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরকার কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়েছে। এরই অংশবিশেষ নতুন বাজেটে উৎপাদনে ব্যবহূত কৃষি যন্ত্রপাতিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে নামমাত্র এক শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ আগের একশ টাকায় ১০ টাকা শুল্ক লাগলে বর্তমানে এক টাকা লাগবে। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পরই মোবাইল অপারেটর কোম্পানি বাড়তি শুল্ক আদায় করলেও কৃষকরা কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষি যন্ত্রপাতি কেনায়। আমন ধানের আবাদ করতে তাদের আগের দামেই ট্রাকক্টর, কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা তাদের বলছে না যে, কৃষি যন্ত্রপাতির দাম কমেছে।

সার্বিক ব্যাপারে জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার সরজা গ্রামের শিক্ষিত কৃষক মো. তাহের আলী আমার সংবাদকে বলেন, বাজেটে অর্থমন্ত্রী কৃষকের সুবিধার কথা বললেও তৃণমূলে অর্থাৎ গ্রামাঞ্চলে কম দামের বালাই নেই। আমনের আবাদ শুরু হয়ে গেছে। সাধারণ কৃষককে আগের দামেই ট্রাক্টর, পাওয়ার ট্রিলার কিনতে হচ্ছে। বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।     

কাজেই মন্ত্রী বাজেটে এতো কথা বললেও তার সুফল পাচ্ছে না কৃষকরা। সরকারের সেই সুযোগ ব্যবসায়ীদের পেটে চলে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার বলছে কৃষকই দেশের প্রাণ। তারাই দেশকে বাঁচিয়ে রাখছে।

তাই সরকারের উচিত শক্তভাবে তদারকি করা, যাতে কৃষকরা কম দামে কৃষিপণ্য কিনতে পারে। হাট-বাজারে ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে তার ব্যবস্থা করা দরকার। তবেই সরকারের ঘোষণা কার্যকর হবে। কৃষকরাও উপকৃত হবে।  

শুধু ওই তাহেরই নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কাজলকেশর গ্রামের কৃষক রিয়াজও এ প্রতিবেদককে বলেন, কই কোনো জিনিসের দাম তো কমেনি। আবাদ শুরু হয়ে গেছে।

ট্রাক্টর, পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে জমি চাষ করতে মাঝে মাঝে নষ্ট হলে বেশি দামেই কিনতে চচ্ছে বিভিন্ন পার্টস। দোকানদার তো কম দামের কথা কিছু বলছে না। বাজেট মন্ত্রী এতো কিছু বলেছে। তারপরও কেন কমছে না, আমাদের বেশি দামে সব কিনতে হচ্ছে। সরকারকে এটা দেখা দরকার।

কোনো সুবিধা চোখে দেখতে পাচ্ছি না : আবু তাহের (কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী)
বাজেটে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ব্যবসায়ীদেরও কিছু সুযোগ দেয়া হয়েছে বাজেটে। দেশি পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে তৈরি পোশাকশিল্পসহ সব ধরনের পণ্যের রপ্তানি মূল্যের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার এক শতাংশ থেকে কমিয়ে অর্ধেক অর্থাৎ দশমিক ৫ শতাংশ বাজেটে ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী।

তারপরও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলা মুসকিল, করোনার ছোবলে টেকা কঠিন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের সিটি এন্টারপ্রাইজের আবু তাহের এ প্রতিবেদককে বলেন, মার্কেটে বাজেটের কোনো প্রভাব পড়েনি। কোনো জিনিসের দাম কমেনি। আগের দামেই সব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। করোনার কারণে বিক্রি একেবারে কমে গেছে। ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী সবাইকে সুবিধা দিয়ে করোনা মোকাবিলার কথা বললেও আমরাতো কোনো কিছু চোখে দেখতে পাচ্ছি না। তাহলে আমরা কীভাবে টিকে থাকব বলে জানান তিনি।

বাজেট জনবান্ধব না ব্যবসাবান্ধবও না : মো. হেলাল উদ্দিন, এফবিসিসিআইএর সাবেক সহ-সভাপতি ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি

একসময় ছিলেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইএর সাবেক সহ-সভাপতি। বর্তমানে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। বাজেট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজেটের সাথে জনগণের কোনো সম্পর্ক থাকে না।

সরকারের বছরের আয়-ব্যয়ের একটা হিসাব তুলে ধরা হয় সংসদে। কোথায় কি আয় করবে তা প্রকাশ করে। আইন প্রণেতারা এক হয়ে তা পাস করেন। কাজেই বলা যায় বাজেটে আহামরি কিছু থাকে বলে আমার মনে হয় না। তাই এটা জনবান্ধব না ব্যবসাবান্ধব তাও বলা যাবে না আমার দৃষ্টিতে।

এ ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, যতই বেশি আয়-ব্যয় ধরুক অর্থমন্ত্রী তাতে আমাদের কিছু যায়-আসে না। যারা রাজস্ব আদায়ের সাথে সম্পৃক্ত তারা জেনে-শুনেই আয় করার হিসেবে দিয়েছে। তারাই জানে আয় করা সম্ভব কি না। তারা যদি আয় করতে পারেন তবে বাজেট বাস্তবায়ন হবে। আর না পারলে হবে না। বাজেটে কালো টাকা তেমন প্রভাব পড়বে না।

কারণ করোনায় মানুষ ভালো নেই। তা মোকাবিলা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক লাখ কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। প্রথমে তারা ইতিবাচক সাড়া দিলেও তিন মাস হয়ে গেছে। তারপরও এর সুফল পাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসব প্রণোদনা বাস্তবায়ন করার কথা।

কিন্তু গড়িমসি করতে বিভিন্ন অজুহাতের আশ্রয় নিয়েছে। করোনায় ১০ দিন কাজ করলে এক মাসের বেতন দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের অবস্থা ভালো না বলে এবার বেতন কমানোর কথা বলছে। সেবা সংস্থার নামে ব্যাংক লুটের কারখানা হয়ে গেছে। তাই মালিক-কর্মকর্তারা যা ইচ্ছা তাই করছে। যেদিকে বৃষ্টি সেদিকে ছাতা ধরছে তারা। যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো সুযোগ না পাই।

করোনা ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব না : মো. খাইরুল ইসলাম, চককৃত্তি ইউপি চেয়ারম্যান, শিবগঞ্জ
চাঁপাইানবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার ৫নং চককিত্তি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাখখারুল ইসলাম খাইরুল বলেন, করোনায় দেশের অবস্থা খুবই খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে। তা মোকাবিলা করতে সরকার বিশাল আকারের বাজেটও দিয়েছে।

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ দিয়েছে বেশি। এটা ইতিবাচক দিক। সবকিছু বন্ধ থাকায় মানুষের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এ জন্য নতুন বাজেটে কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। একই সাথে কৃষি যন্ত্রপাতিতে শুল্কও কমানো হয়েছে। এটা খুবই ভালো দিক।

কিন্তু দু:খের বিষয় বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এখনো ব্যবসায়ীরা কমাচ্ছে না কৃষি যন্ত্রপাতির দাম। তাদের বলা হলেও অজুহাত আগে বেশি দামে কেনা। তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব না। এ ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে তদারকি ও মনিটরিং করা দরকার। তা না হলে বাজেট নিয়ে মানুষ প্রশ্ন করবে।

এ জনপ্রতিনিধি আরও বলেন, ডিজিটাল যুগে মোবাইল নিত্য সঙ্গী। তৃণমূলেও ইন্টারনেট ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। তারপরও বাজেটে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। বাজেট ঘোষণার পরই শুল্ক মোবাইল কোম্পানি আদায় করা শুরু করেছে। যা মোটেই ঠিক হয়নি। তা বিবেচনা করা দরকার বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, বাজেট যাই হোক, মানুষ করোনামুক্ত জীবন চায়। সরকার তা করতে পারলে বাঁচবে দেশ। এগিয়ে যাবে অর্থনীতি। তা না হলে যত কিছুই ধরা হোক বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব না।   

বাজেট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার : শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন, এফবিসিসিআইএর সাবেক সভাপতি ও এমপি
এক সময় ছিলেন তৈরি পোশাকশিল্পের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি। ছিলেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইএরও সাবেক সভাপতি। বর্তমানে সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন।

বাজেটের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিবছর বাজেটে শিল্পের বিকাশে কিছু সুযোগ সরকার দেয়। কিন্তু করোনার কারণে এবার ব্যবসা ভালো না। চাহিদা একেবারে কমে গেছে।

পোশাকশিল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি বাজেটে অনেক সহায়তা করেছেন। নতুন বাজেটেও অবস্থা বুঝে উৎসে কর অর্ধেক মানে দশমিক ৫ শতাংশ করেছেন। এতে ব্যবসায়ীদের অনেক সুবিধা হবে। তবে বেঁচে থাকাটাই চ্যালেঞ্জ ব্যবসায়ীদের জন্য।

কারণ মহামারি করোনা কখন দেশে থেকে দূর হবে, পরিবেশ স্বাভাবিক হবে তা বলা মুশকিল। এর ওপরই নির্ভর করছে বাজেট বাস্তবায়ন। আয়-ব্যয় এবং প্রবৃদ্ধি। তাই বলা যায়, বাজেট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। আইন প্রণয়নে আংশগ্রহণকারী বা সংসদ সদস্য (এমপি) আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসাও ভালো বোঝেন।

এ জন্য তিনি সবসময় ব্যবসায়ীদের আপন ভেবে করের হারও কম বেশি করেন প্রতি বাজেটে। সরকার জনগণের কল্যাণে যা যা করা দরকার তা করার চেষ্টা করছে। দেশে ছুটির সময় ঘরবন্দি মানুষকে বিভিন্নভাবে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। তাদেও মুখে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই বলা যায় নতুন বাজেট হবে জনবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব।

দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে : হারুন অর রশিদ হারুন, বিএনপি দলীয় এমপি  
নতুন বাজেটে সরকার অপ্রদর্শিত আয় জমি, বিল্ডিং ফ্লাট, এপার্টমেন্ট এবং পুঁজিবাজারে ১০ শতাংশ কর প্রদান করে বিনিয়োগ করলে কেউ কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। একই সাথে আন্ডার ইনভয়েসিং, ওভারভয়েসিং ও ভুয়া বিনিয়োগ ঠেকাতে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন ধারা সংযোজন করে ৫ শতাংশ করের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

জানতে চাইলে বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ আমার সংবাদকে বলেন, সরকার দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেই এই সুযোগ দেয়া হয়েছে। যারা অবৈধভাবে আয় করেছে, জনগণের টাকা লুট করেছে তাদের রক্ষা করতেই এই কৌশল নিয়েছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার ঘটেছে দেশে। তাই শুধু ৫০ শতাংশ নয় যারা ওভার আন্ডার ভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থপাচার করবে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ফৌজদারি মামলার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে বিভিন্ন এজেন্সি আছে তাদের কঠোরভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সংসদে বলেছেন, মন্ত্রী-এমপিরা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন না। তারা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ সরকার প্রায় ১২ বছর ক্ষমতায়।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা কী? সরকারের উন্নয়ন ব্যয় সংকোচন করে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তিনি। সারা বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত। আল্লাহ একসঙ্গে সারা বিশ্বকে ঘিরে ফেলেছেন। এর কারণ হলো আজ যারা ক্ষমতা তারা ক্ষমতার লোভে সবকিছু ভুলে গেছে। অত্যাচার, নির্যাতন করছে।

সারা পৃথিবীর চিকিৎসা ব্যবস্থা আজ বিপর্যস্ত। বাংলাদেশে এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য জাতীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জাতীয়ভাবে ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

এতো আয় কখনো সম্ভব না: ড. আহসান এইচ মনসুর, পিআরআই নির্বাহী পরিচালক নির্বাহী পরিচালক
অর্থনীতিবিদ ও পিআরআই-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, এবারের বাজেট হচ্ছে আপদকালীন বাজেট। করেনা জয়ের বাজেট। তারই দেখার বিষয় হলো বাস্তবায়ন। শুধু বরাদ্দ দিলেই হবে না। কোয়ালিটি মেইনটেইন করে তার সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। বাজেটের ব্যয় মেটাতে রাজস্ব বোর্ড থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এটা বাস্তবসম্মত নয়।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, চলতি অর্থবছরে সোয়া ৩ কোটি টাকা রাজস্ব ধরা হলেও হিসাব করে দেখা গেছে তা ২ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় হবে না। কারণ করোনায় সবকিছু স্থবির হওয়ায় বড় ধাক্কা লেগেছে। কাজেই যতই বেশি ধরা হোক না কেন তা আগামী অর্থবছরে আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হবে না।

আর আয় করতে না পারলে বাস্তবায়ন হবে কীভাবে? করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের জন্য ১৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অর্থমন্ত্রী সবমিলে ৪১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করার প্রস্তাব করেছেন।

এ ব্যাপারে আহসান এইচ মনসুর বলেন, স্বাস্থ্য খাতে এ ব্যয় বরাদ্দ যথেষ্ট। এছাড়া আপদকালীন ব্যয় করতে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করেছেন বাজেটে। করোনার ধকল সামলাতে এসব অর্থ বরাদ্দ বড় কথা নয়।

কারণ আর্থিকভাবে বা টাকা দিয়ে করোনা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য খাতের সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। তৃণমূলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবার কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে হবে।

এ অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, করোনা জয়ে শুধু বরাদ্দ বাড়ালে হবে না, লক্ষ্য ধরলে হবে না। বাজেটে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তার সঠিক বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। কারণ করোনায় অর্থনীতিকে এলোমেলো করে দিয়েছে।

প্রবৃদ্ধি একেবারে নেতিবাচক পর্যায়ে চলে এসেছে। তাই হেল্থসেক্টরের সিস্টেম কঠোরভাবে দাঁড় করাতে হবে। ইতোমধ্যে অনেক ক্ষতি হয়েছে। আর বাড়াতে দেয়া ঠিক হবে না। তা না হলে অর্থনীতি পুন:রুদ্ধার হবে না। সম্ভব হবে না স্বাভাবিক জীবনে ফেরা।

আমারসংবাদ/এআই