রবিবার ০৫ জুলাই ২০২০

২১ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

মাহমুদুল হাসান

প্রিন্ট সংস্করণ

জুন ২৯,২০২০, ১০:১৭

জুন ২৯,২০২০, ১০:১৭

ফি নির্ধারণে টেস্টের হার কমে যাওয়ার আশঙ্কা

সাড়ে তিন মাসের বেশি সময় ধরে দেশে করোনা সংক্রমণ চলছে। দিনে দিনে বেড়েছে আক্রান্ত-মৃত্যুর হার। চলতি মাসে দেশে লকডাউন শিথিলের পর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে সংক্রমণ। সংক্রমিত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে গত ২১ জানুয়ারি থেকে বিনামূল্যে নমুনা পরীক্ষা শুরু করে সরকার।

শুরুতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করা হতো। সংক্রমণ বৃদ্ধির পর সরকারি-বেসরকারি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা সম্প্রসারণ করা হয়।

বর্তমানে সারা দেশের ৬৮টি সরকারি ও বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। গতকাল রোববার পর্যন্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি ল্যাবে সাত লাখ ৩০ হাজার ১৯৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন। শুরু থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত নমুনা পরীক্ষার সিংহভাগ সরকারি অর্থায়নে হয়েছে।

এতে সন্দেহভাজন করোনা রোগীর স্বজনদের বাড়তি টাকা গুনতে হয়নি। তবে যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষার অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেখানেও সরকার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সাড়ে তিন হাজারের মধ্যে তাদের নমুনা পরীক্ষার অনুমোদন দেয়া হয়। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে নমুনা পরীক্ষার হার। প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার নমুনা করা হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

এই ব্যয় সংকোচন করতে সরকার ন্যূনতম একটি ফি নির্ধারণ করতে চাইছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, বিনামূল্যে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা হওয়ায় অনেকে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাচ্ছে। এতে নমুনা পরীক্ষার অপব্যবহার হচ্ছে।

ফলে নমুনা পরীক্ষার ন্যূনতম একটা ফি নির্ধারণ করতে চাইছে সরকার। এতে প্রধানমন্ত্রীরও সম্মতি রয়েছে। সরকারচালিত প্রতিষ্ঠানে এসে প্রতিটি নমুনা পরীক্ষর জন্য ২০০ টাকা এবং  বাসায় গিয়ে কারো নমুনা সংগ্রহ করা হলে সেক্ষেত্রে ৫০০ টাকা করে নেয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। খসড়া প্রস্তাবটি বর্তমানে স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি, এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। তবে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিয়ে তা জানিয়ে দেয়া হবে।

এদিকে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, টেস্টে ফি নির্ধারণ করা হলে গরিব মানুষের মধ্যে উপসর্গ থাকলেও তারা নমুনা করাতে পারবে না। আবার অনেকে সামর্থ্য থাকলেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ ই মাহবুব আমার সংবাদকে বলেন, মহামারি কিংবা সংক্রমণ ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। এর দায় সরকার এড়াতে পারে না। এতে যত অর্থ ব্যয় হোক সে বিষয়ে আমলে নিয়ে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করা সমীচীন নয়। কারণ সরকার জনগণের করের টাকায় রাষ্ট্র পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি দায়িত্ব এড়িয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত করোনা ভাইরাস শনাক্তের নমুনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ করে তাহলে সেটা ন্যায়নীতি বহির্ভূত কাজ হবে। এতে করে সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা পরীক্ষার হার কমে যেতে পারে। তাতে সংক্রমণ আরও ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় গঠিত তথ্য ব্যবস্থাপনা, গণযোগাযোগ ও কমিউনিটি মবিলাইজেশন কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার আমার সংবাদকে বলেন, আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জনগণের কথা বিবেচনা করেই করা হবে।

আমারসংবাদ/এআই