শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২০

২২ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ১৬,২০২০, ১২:৪৩

জুলাই ১৬,২০২০, ০২:৩৮

করোনা মহামারিতে সম্মুখযোদ্ধা পুলিশ (পর্ব-৩)

জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে জীবনবাজি রেখে প্রতিনিয়তই ভুমিকা রেখে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। করোনা সংকটেও তার ব্যতিক্রম নয়। মৃত্যুভয়কে জয় করে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি সদস্যই সাহসিকতার সঙ্গে করোনাযুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন বুদ্ধিদীপ্ত ও বহুবিধ অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ পুলিশ প্রধান ড. বেনজীর আহমেদের দিকনির্দেশনা এবং একঝাঁক মেধাবী ও সাহসী রেঞ্জ প্রধান ডিআইজিদের নেতৃত্বে। পাশাপাশি পূর্ণ মনোবল নিয়ে মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতেও করোনা জয়ের লক্ষে কাজ করছেন সবকটি মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা। নেতৃত্বে রয়েছেন মেধাবী কয়েকজন পুলিশ কমিশনার। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানার তথ্যমতে গতকাল পর্যন্ত করোনায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ১৩০ জন। এ সংকট মোকাবেলায় স্ব স্ব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বাংলাদেশ পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি ও মেট্রোপলিটন কমিশনাররা। সাম্প্রতিক করোনাকালীন কর্মকাণ্ড নিয়ে আমার সংবাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। জানিয়েছেন করোনা মোকাবিলাসহ অন্যান্য কার্যক্রমের কথা। নিজস্ব প্রতিবেদক বশির হোসেন খানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক নুর মোহাম্মদ মিঠু

খন্দকার গোলাম ফারুক, ডিআইজি (চট্টগ্রাম রেঞ্জ) : করোনার থাবায় বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ইতোমধ্যে এ ভাইরাসের ভয়াল থাবায় প্রাণ হারিয়েছে অসংখ্য মানুষ। এককথায় চরম সংকটের সম্মুখীন বাংলাদেশ। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য যে লড়াই চলছে সে লড়াইয়ের অগ্রসেনানী বাংলাদেশ পুলিশ। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে চলমান করোনা সংকটের মধ্যে অসংখ্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছে দেশ। সব সংকটেই সবার আগে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ পুলিশ। সম্মুখসারিতে থেকেই মোকাবিলা করে যাচ্ছে সব সংকট। করোনা সংকটেও পুলিশ মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বজনরা ছেড়ে গেলেও পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। সামাজিক বাধা উপেক্ষা করেই করোনা রোগীর দাফন-সৎকার, জনগণকে সচেতন ও সুরক্ষিত রাখাসহ দৈনন্দিন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কাজগুলো করে যাচ্ছে অসীম সাহসিকতার মধ্য দিয়ে। অকুতোভয় বাংলাদেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্বরত সদস্যরা জনগণের সেবা, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষকে রক্ষা করার কাজটি করতে গিয়ে ইতোমধ্যে বেশকজন পুলিশ সদস্য প্রাণও দিয়েছেন। তারাই আবার নিজেদের রেশনসামগ্রী এবং অর্থ বিলিয়ে দিয়েছেন করোনার প্রভাবে কর্মহীন-অসহায় হয়ে পড়া মানুষের মাঝে। করোনা মোকাবিলায় একইভাবে লড়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশও। বহুবিধ অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রণীত এসওপির আলোকে সব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশও। করোনা মোকাবিলায় এ রেঞ্জের নেতৃত্বে রয়েছেন ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।


করোনা সংকটের মধ্যেই আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট, হাটে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, ঈদের ছুটিতে জনসাধারণের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ- এ বিষয়গুলোকে অনেকেই করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন। করোনার মধ্যেও এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কিভাবে করবেন- এমন প্রশ্নে আমার সংবাদকে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ছুটিগুলো ভাগ ভাগ করে দেয়ার জন্য আমরা সরকারকে সাজেশন দিচ্ছি। পশুরহাটগুলোর জন্য আমরা বলেছি, যত কম সম্ভব দেয়া যায় এবং অনলাইনে যেনো পশু বেচা-কেনা করার ব্যবস্থা করা যায়। পশুরহাটের সংখ্যা কমিয়ে খোলা জায়গায় হাটের আয়োজন করার জন্যও আমরা বলছি। এছাড়া যারা পশু কিনতে হাটে যাবেন কিংবা বিক্রি করতে যাবেন- তারা যেন শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচা-কেনা করতে যান। তাছাড়া হাটে অধিক লোক যাওয়া যাবে না। এক-দুজনের বেশি আমরা যেতেও দিবো না পশু কিনতে। আর যারা যাবেন তারা ডাবল মাস্ক পড়ে যাবেন, হ্যান্ড গ্লাভস পরে যাবেন। মোট কথা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রেতা-বিক্রেতারা হাটে যাবেন। আর ইজারাদাররা সবাইকে জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে স্প্রে করিয়ে দেবে। হাটগুলোতে হাত ধোয়ার জন্য সাবান পানির ব্যবস্থা থাকবে। কুরবানির পশুর হাটের কারণে যাতে এ ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি ছড়াতে না পারে।


মফিজ উদ্দিন, ডিআইজি (সিলেট রেঞ্জ) : বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যখন করোনার সংক্রমণ শুরু হয় তখন থেকেই তৎপর সরকারের বিভিন্ন বিভাগ বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগসহ অন্যান্য সংস্থা। তবে পুলিশ বিভাগের তৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। আগের সব সংকটের মতো করোনা সংকটেও সবার আগে সম্মুখসারিতে অবস্থান নেয় বাংলাদেশ পুলিশ। করোনার বিরুদ্ধে দেশের আপামর জনতার পক্ষে পুিলশের এমন অবস্থান গোটা দেশের মানুষের কাছ থেকেই কুড়িয়েছে ব্যাপক প্রশংসা। এরই মধ্যে পুলিশের অসংখ্য সদস্য হয়েছেন আক্রান্ত, মারা গেছেন বেশকিছু সদস্য। তবুও পিছু হটেনি বাংলাদেশ পুলিশের কোনো একটি ইউনিটের একজন সদস্যও। দৃঢ় মনোবল আর জনগণের জানমালের নিরাপত্তাসহ সেবার ব্রত নিয়ে করোনার বিরুদ্ধে নেয়া অবস্থানে অনড় প্রতিটি সদস্যই। তার মধ্যে সিলেট রেঞ্জও এর ব্যতিক্রম নয়। বহুমুখী অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে সদ্য যোগদান করা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে করোনার বিরুদ্ধে লড়ছে সিলেট রেঞ্জ পুলিশও। এ রেঞ্জকে করোনার মধ্যে আরও একটি সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে- সেটি বন্যা। দুই সংকটের বিরুদ্ধেই একযোগে লড়ছে গোটা সিলেট রেঞ্জ পুলিশ।


করোনাকালীন সময়ে সিলেট রেঞ্জ পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম ও আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুরহাট, জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বন্যা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করছেন- এমন প্রশ্নে ডিআইজি মফিজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয় আমার সংবাদের।


সিলেট বিভাগে মেট্রোপলিটন বাদে প্রায় চার জেলায় চার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে পুলিশ সদস্যই আক্রান্ত হয়েছেন তিনশরও বেশি। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে আমার সংবাদকে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন বলেন, আমাদের আক্রান্ত সদস্যদের মধ্যে কারো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, করোনার প্রথমদিকে আমি ডিএমপিতে থাকাবস্থায় দেখেছি দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় ঢাকায় করোনা প্রকোপ একটু বেশি। সেখানে বেশি হওয়ার কারণ জনসংখ্যার ঘনত্ব। অল্প জায়গায় বেশি লোক বসবাস করে এবং অল্প জায়গায় বেশি পুলিশ বসবাস করে। এটা আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। সেখানে থাকা অবস্থায়ও আমরা করোনা মোকাবিলায় বেশকিছু কলাকৌশল গ্রহণ করেছিলাম। বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করা, বসবাস করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। প্রথমদিকে যখন পুরো ঢাকাসহ বাংলাদেশ লকডাউন হলো তখনো আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজগুলো করেছি।


এছাড়া ডিএমপিতে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকাবস্থায় মহানগরীতে যাতে ইর্মাজেন্সি গাড়িগুলো বাদে অন্যান্য গাড়িগুলো চলাচল করতে না পারে সে ব্যাপারে তিনি কঠোর ভূমিকা নিয়েছিলেন। এমনকি মহানগরীতে গাড়ি চলাচল যখন বন্ধ ছিলো সে সময়েও নতুন সড়ক পরিবহন আইনের ৯২এর ১ ধারায় কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে গাড়ি চালানোর অপরাধে প্রায় পাঁচ হাজার মামলা করেছিলেন। সিলেটের বিষয়ে তিনি বলেন, সিলেটে দায়িত্ব নেয়ার পর যেসব ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন (পাবলিক হউক, পুলিশ হউক) শুরুতেই তাদের আক্রান্তের কারণগুলো বের করার চেষ্টা করেছি। কেউ কি বিদেশ থেকে আসার কারণে হলো নাকি বাইরে থেকে লোক আসার কারণে হলো, তাদের আইসোলেশনে রাখা আছে কিনা- তাদের দ্বারা যেন সংক্রমণ বাড়তে না পারে সে বিষয়গুলোতে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। বিশ্বনাথ থানা, চুনারুঘাট থানা এমনকি কিছু কিছু এলাকায় যেখানে বেশি আক্রান্ত হয়েছিল তাদের বিভিন্ন স্কুলে আলাদা রেখেছিলাম। আবার অন্য একটা স্কুল নিয়ে পুলিশ লাইন এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে আক্রান্ত নয় এবং আক্রান্তদের আলাদা রেখে আমরা টেম্পোরারি থানা চালিয়েছি। বিভিন্ন ইউনিটে জীবাণুনাশক টানেল দিয়েছি। মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, পিপিই এগুলো প্রচুর পরিমাণে পুলিশ সদস্যদের দিয়েছি এবং ব্যবহারে অভ্যস্ত করেছি। সিলেট রেঞ্জের চার জেলায় হাইওয়েতে প্রায় ২০টির মতো চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। গাড়িতে যাত্রীরা মাস্ক পড়েছে কীনা, সরকারের দেয়া অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের নির্দেশনা মানছে কীনা এসব বিষয়গুলো আমরা লকডাউনের সময়ে করেছি। সে সময় এক জেলার গাড়ি অন্য জেলায় যেতে পারেনি। এখন আবার চেকিংয়ের আওতায় নিয়ে আসছি এবং আরও কঠোর হবো আমরা।


ঈদে পশুরহাট ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে বিভাগীয় পর্যায়ের মিটিং হয়েছে বলে জানান তিনি। সিদ্ধান্ত হয়েছে হাটে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে। হাটে প্রবেশের পথ এবং বের হওয়ার পথ আলাদা করা হবে। হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা মাস্ক পরছে কী না, সামাজিক দূরত্ব মানছে কী না এছাড়া বেশি বেশি গরু হাটে না এনে অনলাইনে কিংবা এলাকাতেই বিক্রি করা যায় কী না সেগুলোর প্রতি উৎসাহিত করা হচ্ছে। সামাজিক দূরত্বের ক্ষেত্রে হাটগুলোতে মাস্ক পরার বিষয়ে পুলিশ পেট্রলিংয়ের মাধ্যমে, ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং এ কাজগুলো যাতে থানা পুলিশ ঠিকঠাকভাবে করে সেটা তদারকির জন্যও আমাদের ইন্সপেক্টর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদারকি অফিসার হিসেবে মনোনীত করেছি। আমাদের রেঞ্জ কার্যালয় থেকেও তদারকির ব্যবস্থা করছি বলেও জানান তিনি।


এছাড়া সিলেটের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলায় পরপর দুইবার বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যা এবং করোনার কারণে সরকার যে ত্রাণ বিতরণ করছে, সেটা যাতে সঠিকভাবে বিতরণ হয় সে ব্যাপারে আমরা সিলেট রেঞ্জ পুলিশ বদ্ধপরিকর। সরকারের অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি আমরাও কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে চার জেলায় ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের জন্য বেশকিছু মামলাও হয়েছে, সেগুলো তদন্ত আমরা করছি। ত্রাণ বিতরণে যেনো নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটে সে ব্যাপারেও আমরা লক্ষ রাখছি। সাথে সাথে পুলিশের যারা বন্যাকবলিত এলাকায় কষ্টের মধ্যে আছে তাদের ওয়েলফেয়ার করার বিষয়ে পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা দিয়েছি। আমি নিজেও কয়েকটি জায়গা পরিদর্শন করেছি। তার মধ্যে আমাদের কোম্পানীগঞ্জ থানা তলিয়ে গেছে সেখানেও আমি গিয়েছি। আগামী সপ্তায় সুনামগঞ্জ যাবো। সার্বিকভাবে আমরা কোভিড নিয়ন্ত্রণ এবং বন্যাকবলিত এলাকার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ মানুষের বিপদে-আপদে আগেও পাশে ছিলাম এখনো আছি ভবিষ্যতেও থাকবো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


এ কে এম হাফিজ আক্তার, ডিআইজি (রাজশাহী রেঞ্জ) : সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ই কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ। করোনা একটা চ্যালেঞ্জ যাচ্ছে, আবার এর মধ্যে ছোটো ছোটো কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বর্তমান সময়ে পিকে উঠে গেছে করোনা। এক্ষেত্রে আমার চ্যালেঞ্জ দুটি। তার একটি হলো- ইন্টারনাল চ্যালেঞ্জ আরেকটি হলো আউটার চ্যালেঞ্জ। নিজেদের সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি জনসাধারণের বিষয়টিও আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। ইতোমধ্যে রাজশাহী রেঞ্জে পাঁচশর বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আবার সামনে কুরবানির ঈদেও কয়েকটি বিষয় রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম একটি পশুরহাট আরেকটি ঈদকেন্দ্রিক ছুটিতে জনসাধারণের চলাচল। জনসাধারণের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ, গরুরহাটে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, আবার কুরবানির ঈদ এলেই জালটাকার ছড়াছড়ি হয়ে যায়, এটা নিয়ন্ত্রণেও আমাদের কাজ করতে হয়- আমার সংবাদকে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন করোনা সংকটের ফ্রন্টলাইনার বাংলাদেশ পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, প্রতিটি ঈদেই আমাদের এসব কার্যক্রম চলে। এছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক ও প্রধানমন্ত্রীর যে নির্দেশনাগুলো রয়েছে কিছু কিছু বিষয়ে সেভাবে পুরোপুরি কাজ হচ্ছে না। সে কাজগুলো যাতে পূর্ণাঙ্গভাবে করা যায় সেজন্য পুলিশের আইজিপি ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো আরও সুচারুরূপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, যাতে মানুষের সেবা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এক্ষেত্রে মানুষজন বাড়িতে ফিরবে, বাড়ি যাওয়া-আসার পথে রাস্তায় ট্রাফিক সিস্টেম ঠিক রাখা, গরুরহাট ঠিক রাখা- এসব বিষয়ে (গতকাল বুধবার) আইজিপি মহোদয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আবার সামনে ১৫ আগস্টের একটি বিষয় রয়েছে। এসব বিষয়গুলোকেই আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি। আমরা চেষ্টা করি সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি এলাকায় যাতে এসব চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নের একটা মান থাকে, কেউ খুব ভালো করলো আবার কেউ করলোই না, তা নয়। কারণ পুলিশের সক্ষমতা ১০ বছর আগে যা ছিলো তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যুগে যুগে আমাদের এ সক্ষমতাটা বাড়িয়েছেন সরকার, মন্ত্রী, সচিব মহোদয়রাসহ আমাদের সিনিয়র অফিসাররা। এ ক্ষমতায় আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত। আমাদের অসংখ্য সদস্য মারাও যাচ্ছেন। প্রচুর আক্রান্তও হচ্ছেন। তবে এ নিয়ে আমরা কেউ ভীত নই। আমরা নিজেদের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ করে যাচ্ছি। সামনে যত চ্যালেঞ্জ আছে, সেগুলোতে যাতে আরও বেশি কাজ করা যায়, মানুষের সেবা করা যায়- সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

আমার সংবাদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশ যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় সেগুলো কারো একার পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব না। সবগুলো সংস্থাকেই একত্রে কাজ করতে হয়। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেউ খুব এগিয়ে যাচ্ছে আবার কেউ পিছিয়ে যাচ্ছে (যদিও এটা সরকারের দেখার বিষয়)। যারা পিছিয়ে যাচ্ছে তাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে, আরও অধিক সক্ষমিত করে আমরা সবাই মিলে কাজ করে যাতে একটি সুন্দর দেশ গড়তে পারি- সেটাই আমাদের লক্ষ্য এবং কাম্য। এক কথায় বলতে গেলে, আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে করতে এটুক পর্যন্ত আসছি, বাকি দিনেও যত চ্যালেঞ্জই সামনে আসুক না কেন আমরা সফলভাবে সব চ্যালেঞ্জই মোকাবিলা করবো- এটাই আমাদের লক্ষ্য এবং এটাই আমরা প্রত্যয়।

ড. খঃ মহিদ উদ্দিন, ডিআইজি (খুলনা রেঞ্জ) : স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সর্বশেষ চলমান করোনা সংকট, এর মাঝেও বিভিন্ন সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আজ শক্তিশালী ও গতিশীল এক বাহিনীতে রূপ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। অকুতোভয়-নির্ভীক সাহসিকতার মধ্য দিয়ে পুলিশ বাহিনীকে মানুষের জন্য কল্যাণমুখী করার যে প্রচেষ্টা, তার পরতে পরতে এ বাহিনীকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ। এমনই একটি চ্যালেঞ্জ করোনা সংকট। যে সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে প্রাণ দিয়েছেন পুলিশের বেশকজন সদস্য। তবুও মনোবল না হারিয়ে সংকট মোকাবিলা এবং দেশের জনসাধারণের পাশে থেকে অভাবনীয় নজির ইতোমধ্যেই স্থাপন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। তার শরিকদার খুলনা রেঞ্জ পুলিশও। এ বিভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন ডিআইজি ড. খ. মহিদ উদ্দিন। সম্প্রতি তার সঙ্গে করোনা এবং পুলিশিংয়ের সার্বিক বিষয়ে কথা হয় আমার সংবাদের।

তিনি আমার সংবাদকে বলেন, সম্প্রতি পুলিশের যে কার্যক্রম, বিশেষ করে কোভিড-১৯-এ যে কার্যক্রম সেটির ব্যাপারে আপনারা, দেশের সর্বসাধারণ এমনকি সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রীও আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের যে গৌরবময় ইতিহাস এটি কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকেই শুরু। তখন সর্বপ্রথম যে বুলেটটি ছুড়েছিল, সেটি বাংলাদেশ পুলিশ। তার পরবর্তীতেও বিভিন্ন সময়ে পুলিশ বাংলাদেশের যেকোনো ক্রাইসিস মুহূর্তে শর্তবিহীন (আনকন্ডিশনাল) সরকারের জন্য, দেশের জন্য তাদের সর্বোচ্চ শ্রম ও মেধা তারা দিয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে তারা জীবনও উৎসর্গ করেছে। দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে, সরকারের স্বার্থে তারা কখনোই তাদের দায়িত্ব থেকে সরে যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ শুধু কোভিডের কারণে ভালো করছে, অন্যান্য সময়ে করেনি- তা কিন্তু নয়। পুলিশ সব সময়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে যেকোনো বড় ধরনের ঘটনা, মনুষ্য সৃষ্ট যেকোনো বিপর্যয়েও পুলিশই সবার আগে প্রথম সারিতে চলে আসে। পুলিশ কোনো দিনও কারো জন্য অপেক্ষা করে না, তার ওপরে অর্পিত দায়িত্ব সে মনে করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দেশের সমৃদ্ধি অর্জন করা সবই তারা তাদের কাজের অংশ বলেই মনে করে।

তিনি বলেন, পুলিশের এ বিষয়গুলো আগে এতটা প্রচার হতো না, মিডিয়ায় আসতো না। কিন্তু কোভিডকালীন সময়ে সোস্যাল মিডিয়ায়, ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আসার কারণেই এবার ফলাও করে জনসম্মুখে উঠে আসছে। তবে তিনি মনে করছেন, পুলিশের জন্য এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। হয়তো এবার একটু বেশি চোখে লাগছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কাজের এই যে ধারাবাহিকতা এটিকে আমরা সামনের দিকে নিয়ে যেতে চাই- আইজিপি মহোদয়ের নেতৃত্বে। আমরা বাংলাদেশ পুলিশ, আমরা বদ্ধপরিকর, সেখান থেকে আমরা পিছ পা হবো না, আমরা যাবো সামনের দিকে। আপনারা খেয়াল করবেন যে, বিগত ১০ বছর আগেও পুলিশ যে জায়গায় ছিলো সে জায়গা থেকে এখন অনেক সামনে। তাই এখান থেকে পিছ পা হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আমাদের পুলিশের প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা, ওয়েলফেয়ার, তাদের অপারেশনাল কার্যক্রমের সক্ষমতাসহ প্রতিটি বিষয়ে আমরা আমাদের সাধ্যমতো গুরুত্ব দিচ্ছি। কোভিডকালীন সময়ে আমরা আমাদের প্রায় ৪০ জনের বেশি সহকর্মীকে হারিয়েছি। সকল পুলিশ সদস্যসহ কোভিডের কারণে বাংলাদেশের যত মানুষ মারা গেছেন সবার জন্য আমরা সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

আমাদের পুলিশের বর্তমান যে অবস্থা সেটিকে আরও কি করে সামনের দিকে নেয়া যায়, মানুষের আরও কাছাকাছি কীভাবে নেয়া যায়, মানুষের জন্য কল্যাণমুখী পুলিশ কীভাবে করা যায়- সেটির প্রচেষ্টা আইজিপির নেতৃত্বে চলছে এবং এটি আমরা সামনের দিকে নিয়ে যাবো। সেজন্য আমরা ওয়েল ইক্যুইপ্ট হবো, ট্রেনিং থেকে শুরু করে আমাদের আচার-আচরণ, হিউমেন্ট্রিয়ান বিষয়গুলো, ইন্টেলিজেন্সসহ সব দিকেই আমরা চেষ্টা করবো মানুষের জন্য আরও কল্যাণকর কিছু করার।

মো. শফিকুল ইসলাম, ডিআইজি (বরিশাল রেঞ্জ) : করোনাকালীন সময়ে সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় আমার সংবাদের। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর ভারী অস্ত্রের বিরুদ্ধে থ্রি নট থ্রি রাইফেলের প্রথম বুলেটটি ছুড়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ। দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা সবসময়ই প্রশংসনীয়।

বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ ভাইরাসের আক্রমণে মহামারি দেখা দিয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেখানে এই ভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ খুব সফলতার সাথেই প্রতিনিয়ত এই ভাইরাস মোকাবিলা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে করোনা পরিস্থিতিকে মোকাবিলার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পুলিশ বদ্ধপরিকর।

বরিশাল রেঞ্জাধীন ছয়টি জেলার পুলিশ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সরকার যখন দেশব্যাপী লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেটি বাস্তবায়নে বরিশাল রেঞ্জ পুলিশ দিন-রাত কাজ করেছে। এছাড়াও জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উৎসাহ প্রদান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রচারণা, চেকপোস্টের মাধ্যমে চলাচল নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কার্যক্রম অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বাস্তবায়ন হচ্ছে এই রেঞ্জে। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, আক্রান্তদের হাসপাতালে পৌঁছানো, মৃত ব্যক্তির সৎকার, বাজার খোলা মাঠে স্থানান্তর থেকে শুরু করে বিবিধ কার্যক্রম করছে বরিশাল রেঞ্জের অধীন ছয় জেলা পুলিশ। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো করোনা মহামারিতেও সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যান্য পুলিশ ইউনিটের মতো সমানতালে কাজ করেছে বরিশাল রেঞ্জের অধীন ছয়টি জেলার পুলিশ।
সবশেষ তিনি বলেন, দেশমাতৃকার যেকোনো সেবায় বাংলাদেশ পুলিশ সবসময়ই সবার আগে এগিয়ে এসেছে। প্যানডেমিক কোভিড-১৯ প্রতিকারেও বাংলাদেশ পুলিশ তার সব সক্ষমতা নিয়ে সর্বাত্মক ও নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

দেবদাস ভট্টাচার্য, ডিআইজি (রংপুর রেঞ্জ) : বিপদে বন্ধুর পরিচয়- স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম ভোর থেকে শুরু করে বারবার এই প্রবাদ বাক্যের সত্যায়ন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। অসীম সাহসী বাংলাদেশ পুলিশ সেদিন পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম বুলেট ছোড়ার মধ্য দিয়েই দেশের মানুষের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়েছিল আজ চলমান করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধেও ঠিক একইভাবে অবস্থান নিয়েছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রাণও দিয়েছে বেশকজন সদস্য। মানুষের নিরাপত্তা, সেবা আর করোনা থেকে দেশের জনসাধারণকে মুক্ত রাখতে গিয়েই নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন সেসব সদস্যরা। স্বজনরা ছেড়ে গেলেও দাফনকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পাশে ছিলো বাংলাদেশ পুলিশ। মানবিকতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে করোনাকালে সে জন্য দেশের মানুষের কাছ থেকে পাচ্ছে অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সমর্থন। এ অর্জন ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরাও মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করছেন যার প্রমাণ মিলছে করোনা সংকটে।

নিজেদের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করেই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লড়ছে রংপুর রেঞ্জ পুলিশও। সরকার ও পুুলিশ সদর দপ্তরের সব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন এই রেঞ্জের প্রতিটি পুলিশ সদস্যই। যার নেতৃত্বে রয়েছেন ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের এসওপিতে যে নির্দেশনা রয়েছে এবং সরকারের যেসব নির্দেশনা রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাটে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, ঈদের ছুটিতে জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেও কাজ করছে রংপুর রেঞ্জ পুলিশ।

ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ, ডিআইজি (ময়মনসিংহ রেঞ্জ) : করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশিত হোম কোয়ারেন্টাইন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিতকরণসহ করোনা মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ পুলিশ। তার মধ্যে ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশও এর ব্যতিক্রম নয়। অতীতের ন্যায় সংকট মোকাবিলায় এবং দেশমাতৃকার সেবার ব্রত নিয়ে ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রাণপণ লড়ে যাচ্ছে ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশ। গোটা বাংলাদেশ পুলিশের সব ইউনিটে অসংখ্য সদস্য এখন পর্যন্ত আক্রান্ত এবং মারা গেলেও অকুতোভয় পুলিশ সদস্যরা মৃত্যুভয়কে জয় করে ইতোমধ্যেই দেশের মানুষের হƒদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে। পুলিশ বাহিনীর এ সুনাম ও যশ ধরে রাখতে এবং দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে এ ধারা অব্যাহত রাখতে বহুমুখী অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।

করোনাকালীন সময়ে ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে ডিআইজি হারুন অর রশিদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় আমার সংবাদের। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সরকারের নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করছে ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশ। হাট-বাজারগুলোতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে এমনকি ৬ ফুট দূরে দূরে দাঁড়ানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করতে কাজ করেছে এই বিভাগের সদস্যরা।

তিনি বলেন, মার্কেটগুলোর সভাপতিদের নির্দেশনা দিয়েছি যাতে তারা ক্রেতাদের ভিড় না জমিয়ে মার্কেট পরিচালনা করেন। তারা সে নির্দেশনা মেনেছেন। এর পাশপাশি পুলিশের যেসব মৌলিক কাজগুলো (নিয়মিত পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা) রয়েছে সেগুলোও আমাদের করতে হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবেই করতে পেরেছি আমরা। প্যান্ডামিক পুলিশিংয়ের মধ্যেই আমরা সফলভাবে কাজ করছি। কোথাও রোগী ফেলে চলে গেছেন স্বজনরা তাকে মেডিকেলে নেয়া, মৃত ব্যক্তিদের দাফন-সৎকার করার কাজটিও করেছে পুলিশ।

এছাড়া লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষসহ দুস্থদের মাঝে খাদ্য সহায়তা করেছি আমরা। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব কর্মসূচি ছিলো সেগুলো বাস্তবায়নে পুরোপুরি সাপোর্ট দিয়েছি। পাশপাশি নিজেদের অর্থায়নেও ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি- বলেন ডিআইজি হারুন অর রশিদ।

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ এ কাজগুলোর উপর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং তার নেত্বত্বেই পুলিশের এসব কার্যক্রম চলছে সুচারুরূপে। পুলিশের প্যান্ডামিক অবস্থানেও তিনি যে এসওপি আমাদের জন্য প্রস্তুত করে দিয়েছেন তা বিশ্বের দু-একটি দেশ ব্যতীত অন্য কোনো দেশে নেই। এশিয়ার মধ্যে কেউ এরকম স্ট্যান্ডার্ড এসওপি করতে পারেনি। আমরা করেছি, বহুবিধ অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ আইজিপি বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে।

কুরবানির পশুরহাটের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দুটি বড় ইভেন্টই হচ্ছে- বাৎসরিক দুটি ঈদ। হাটের ব্যাপারেও কিছু নির্দেশনা রয়েছে। তার মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাটের সংখ্যা বাড়ানো, যাতে হাটে জনসমাগমের বিষয়টি কমিয়ে আনা যায়। একেক এলাকায় একেক দিন হাট বসানো, হাটগুলোতে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকবে। হাটে নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। হাটে যেন পশু দূরে দূরে রাখা হয় এবং হাটে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য আলাদা করে রাস্তা তৈরি করতে হবে। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হবে। ইতোমধ্যে এগুলো নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও আমরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি, তবে ব্যক্তির সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষ তিনি বলেন, এসব মিলিয়ে ময়মনসিংহের করোনা পরিস্থিতি একেবারেই খারাপ নয় বরং ভালো। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকের মতোই সুস্থ। তার মধ্যে রেঞ্জ পুলিশের ১৫০ জন আক্রান্ত হলেও ১১৫-১২০ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছেন।

মাহবুবুর রহমান, পুলিশ কমিশনার (চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ) : করোনায় মানবিক আচরণ ও সামাজিক কল্যাণে পুলিশের নানা কর্মকাণ্ড দৃষ্টি কেড়েছে দেশবাসীর। পুলিশ জনগণের বন্ধু- তাই প্রমাণ করেছে করোনা দুর্যোগে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নেতৃত্বে রয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান। তিনি মানুষের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্তও হয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে আবার মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। গায়ে পুলিশের পোশাক। হাতে লাঠি কিংবা অস্ত্র থাকার কথা। কিন্তু না, তাদের হাতে ছিলো প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রীর বাক্স। অসহায়দের এভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে সব সময় প্রস্তুত সিএমপির একঝাঁক পুলিশ সদস্য। দারিদ্র্য ও বয়সের ভারে যে মানুষগুলো পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে কোথাও ঠাঁই না পেয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছিল- সে মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। পুলিশের উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে মানবিক পুলিশ ইউনিট গঠন করছেন পুলিশের এই কমিশনার। রাত নেই দিন নেই মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে সিএমপি পুলিশ। প্রসূতি মা কিংবা করোনা রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানো, মৃত ব্যক্তির দাফন, জানাজা সব কাজই করছে পুলিশ।

এ ছাড়াও করোনা সংক্রমণ রোধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক ওয়াটার ক্যানন দিয়ে জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি ছিটানো, ওয়াটার ক্যানন দিয়ে পানি ছিটানো হয়। কর্মহীন মানুষের জন্য হটলাইন সেবা চালু, ফোন করলেই খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানো। প্রতিদিনই মহানগরীর প্রতিটি থানায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়। সিএমপি পুলিশ ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় স্থাপন করা হয় সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতাল। ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের পাশাপাশি সাধারণ রোগীদেরও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। ১২ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, ১৬ জন নার্স ও ৫০ স্বেচ্ছাসেবক এই হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, জনগণের সেবা দিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গিয়েছেন, তবুও থেমে নেই মানবসেবা। জীবনের মায়া ত্যাগ করে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে মানবিক পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা ও হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম মেনে চলার উদ্দেশ্যে জনস্বার্থে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়- যা ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

মো. শাহাবুদ্দিন খান, পুলিশ কমিশনার (বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ) : ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু, সেবাই পুলিশের ধর্ম,’ বরিশাল মহানগরে এই কথাগুলো এখন যেন শুধু কথার কথা নয়। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এই কথাগুলোকে বাস্তবে রূপদান করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশকে একটি মানবিক পুলিশ ইউনিটে রূপদান করেছেন একজন মানবতার ফেরিওয়ালা। তিনি আর কেউ নন, তিনি বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান।
বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন সময়ে বিএমপি কমিশনারের ডায়নামিক নেতৃত্ব ও মাঠপর্যায়ে সশরীরে উপস্থিত থেকে তার প্রত্যক্ষ তদারকিতে বরিশাল মহানগর পুলিশ ইউনিট হয়ে উঠেছে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পুলিশ কমিশনার মোটিভেশনে পেশাদারিত্ব ছাপিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক একজন সদস্য হয়ে উঠেছেন এক একজন মানবিক কর্মী। করোনাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বরিশাল মহানগর পুলিশের যে মানবিক কার্যক্রম সেগুলো ছিলো সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য দুর্যোগের সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের জীবন তথা পরিবারকে করেছেন বিপন্ন। ঈদ-চাঁদ, পূজা-পার্বন, ধর্মীয়, সামাজিক, পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানেই বাড়ি যেতে পারেননি পুলিশ সদস্যরা। দুর্যোগকালীন সময়ে অনেক পেশাজীবী পরিবার নিয়ে নিরাপদে ঘরে বসে থাকলেও পরিবারের কাছে ছুটে গিয়ে বাবার জন্য পথপানে আকুল নয়নে চেয়ে থাকা ছোট শিশুটিকে পারেননি কোলে তুলে নিতে। জনগণকে নিরাপদ রাখতে দুর্যোগকালীন সময়ে লকডাউন বাস্তবায়ন, চেকপোস্ট ডিউটি, বিদেশ ফেরত প্রবাসীসহ অন্যান্যদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ, করোনারোগীর আইসোলেশন নিশ্চিতকরণ, করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া, হাসপাতাল থেকে বাসায় পৌঁছে দেয়া, করোনা আক্রান্ত রোগীর বাসায় ওষুধপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছে দেয়া, করোনা আক্রান্ত লাশের দাফন-সৎকার করা। নিজের জীবন বিপন্ন করে শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে এই দায়িত্বগুলো পালন করতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিমসহ বিভিন্ন স্তরের সর্বমোট ২২৮ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হন। তার মধ্যে ১৭৭ জন সদস্য ইতোমধ্যে করোনাযুদ্ধে জয়লাভ করে।

জনগণকে নিরাপদ রাখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা এবং আইইডিসিআর কর্তৃক ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য নিজের জীবনকে করেছেন বিপন্ন। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন জনসমাগমের স্থানে মাইকিং, কেবল চ্যানেলগুলোতে সতর্কতামূলক প্রচারণাসহ গ্রহণ করেছেন নানামুখী কার্যকরী পদক্ষেপ। এছাড়াও বাড়ির কোনো ভাড়াটিয়া করোনা আক্রান্ত হয়েছেন শুনে যখন কোনো বাড়িওয়ালা বাসা থেকে ভাড়াটিয়াদের বের করে দিয়েছেন, তাৎক্ষণিক পাশে দাঁড়িয়েছে বিএমপি পুলিশ। করোনা আক্রান্ত বাবা-মাকে যখন সন্তানরা ও নিকটাত্মীয়রা ত্যাগ করেছে, তখন আশ্রয় দিয়েছে পুলিশ, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ভয়ে যখন পরিবারের লোকজন করোনায় আক্রান্ত রোগীর লাশ ত্যাগ করে পালিয়েছে। তখন নিজের জীবন তথা পরিবারের জীবন বিপন্ন করে মৃত্যুকে তুচ্ছ করে মানবিকতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে পুলিশ। লাশের জানাজা পড়িয়েছে, জানাজা নামাজের ইমামতি করেছে, লাশের দাফনকাফন সম্পন্ন করেছে, মৃতদেহের সৎকারের ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। অসহায়-দুঃখী মানুষের পাশে বিএমপির প্রত্যেক সদস্য যার যার অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়িয়েছেন। করেছেন আর্থিক সাহায্য, দিয়েছেন নিজের রেশন সামগ্রী উপহার। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত যেসব অসহায় হতদরিদ্র মানুষ আত্মসম্মানের ভয়ে কারো কাছে হাত পেতে সাহায্য চাইতে পারেনি, তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল ফোন নাম্বারে এবং বিএমপির ফেসবুক পেজে মেসেজ দেয়ামাত্র পুলিশ কমিশনার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাদের সংগোপনে, রাতের আঁধারে পৌঁছে দেয়া হয় ত্রাণ সাহায্য। যা এখনো চলমান।

এছাড়াও বরিশাল মহানগরের যেসব এতিমখানা আর্থিক সংকটের জন্য এতিম শিশুদের ঠিকভাবে খাওয়াতে পারছে না তাদের গোপনে আর্থিক সাহায্য করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন অফিসারদের সমন্বয়ে যাকাত ফান্ড গঠন করে সাহায্য করা হয়েছে গরিব-দুঃখী অনেক মানুষকে। ইউনিট প্রধান হিসেবে একজন দায়িত্ববান পিতার মতো, যারা মানবসেবায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে তাদের সদস্যদেরও হাসপাতালে ভর্তি করানো, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো, চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেয়া, ওষুধপত্র পৌঁছে দেয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেয়া, তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মানসিক মনোবল দৃঢ় রাখা। প্রতিনিয়ত কথা বলে আক্রান্ত সদস্যসহ তার পরিবারের সকল সদস্যের মনোবল চাঙ্গা রেখেছেন। এক কথায় একজন পিতা তার সন্তানকে সব ধরনের আপদ-বিপদ থেকে যেভাবে আগলে রাখেন, ঠিক সেভাবে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগ থেকেই পুলিশ কমিশনার তার সব সদস্যকে আগলে রেখেছেন। যে সমস্ত সদস্য করোনাযুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন, কাজে যোগদানের পূর্বে দুই দফায় তাদের ৮৫ জন সদস্যকে দিয়েছেন সংবর্ধনা। মানুষের জীবন বাঁচাতে মানব কল্যাণে করোনা বিজয়ী সদস্যদের মোটিভেশন করে তাদের সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন প্লাজমা ডোনার গ্রুপ। যাতে করে যেকোনো পুলিশ সদস্য কিংবা সাধারণ মানুষের কল্যাণে মানবসেবায় রক্তের প্লাজমা দিয়ে জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে পুলিশ সদস্যরা। শেবাচিম হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বিভূতি ভূষণকে তার দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করার জন্য করেছেন তিনি, পিপিইসহ দিয়েছেন বিভিন্ন সুরক্ষাসামগ্রী উপহার।

পুলিশিং কার্যক্রম স্পর্শকাতর একটা পেশা হওয়া সত্ত্বেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশ কমিশনার বরিশাল মহানগরীর সকল থানায় ‘ওপেন হাউজ ডে’ কার্যক্রম চালু করেন। যেখানে স্বয়ং ইউনিট প্রধান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ থানার সব অফিসারের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার সকল শ্রেণিপেশার লোকজন ও ভুক্তভোগীরা উপস্থিত হয়ে তাদের যেকোনো সমস্যা, এমনকি তা যদি হয় কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সেটাও বলতে পারেন। ওপেন হাউজ ডে-তে ভুক্তভোগীদের উত্থাপিত সমস্যা সংক্রান্ত কী কী কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা পরবর্তী ওপেন হাউজ ডে-তে জনগণের সামনে জবাবদিহিতা করা হয়।

খন্দকার লুৎফুল কবীর, পুলিশ কমিশনার (খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ) : খুলনা মহানগরীতে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরুর দিকে, ২৫ মার্চ থেকে ত্রাণ পৌঁছে দিলেও রান্না করে খাওয়ার সামর্থ্য নেই এমন ৩০০ জন দুস্থ, প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমূল মানুষকে খুলনা মহানগর পুলিশের বিশেষ টিম কর্তৃক নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন দুই বেলা রান্না করা উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই সহায়তা কার্যক্রমে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির।

জানা গেছে, লকডাউন ও হোম কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে কেএমপি, খুলনায় ৪ (চার) সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্য একটি হটলাইন খোলা হয়েছে। ওই হটলাইনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে চাহিদা মোতাবেক হোম কোয়ারেন্টাইনকৃত নাগরিকদের তাদের বাসস্থানে খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদসহ অন্যান্য যেসব সংস্থা নিম্ন আয়ের ও অভুক্ত কর্মহীন মানুষদের ত্রাণ বিতরণ করছেন, তাদের বিতরণ কার্যক্রম যেন সুষম ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়িত হয় তাতে কেএমপি, খুলনা সার্বিক সহযোগিতা করছে। কেএমপি, খুলনার জলকামানের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরুর দিন থেকে নিয়মিতভাবে নগরীর বিভিন্ন জনসমাগমপূর্ণ পয়েন্টে এবং ট্রাফিক সিগন্যালে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন নাগরিকদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ অনেকাংশে কমেছে অপরদিকে তাদের মধ্যে করোনা সচেতনতাও বেড়েছে। কেএমপি, খুলনার কুইক রেসপন্স টিমের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতির রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ ও চলৎশক্তিহীন করোনা উপসর্গের ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা, করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির সমাহিতকরণে সহায়তা করা হচ্ছে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লকডাউনকৃত বাসা-বাড়িতে সতর্কতামূলক লাল পতাকা টানানোর কাজে কুইক রেসপন্স টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে।

মো. হুমায়ুন কবির, পুলিশ কমিশনার (রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ) : রাজশাহী মহানগরকে করোনামুক্ত রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির। ফলশ্রুতিতে রাজশাহী মহানগরীতে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিলো। রাজশাহীতে বিপুল প্রবাসী ফেরত আসেন, যাদের অনেকেই করোনা প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া দেশসমূহ থেকে এসেছিলেন। বিমানবন্দর এবং স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন থেকে প্রদত্ত তথ্য দেখা যায়, মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সর্বমোট ২১০৩ জন বিদেশি নাগরিক মহানগরীতে এসেছেন। মহানগর পুলিশের সব থানা একযোগে নিজ নিজ এলাকায় এসব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করে। বেশির ভাগ ব্যক্তিরই পাসপোর্টে প্রদত্ত ঠিকানার সঙ্গে মিল না থাকায় তাদের খুঁজে পাওয়া দুরূহ ব্যাপার ছিলো। পরে নগর বিশেষ শাখা পাসপোর্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ওইসব পাসপোর্টে প্রদত্ত দ্বিতীয় যোগাযোগ ও মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে এবং কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করে। নগরীতে প্রবেশ ও চলাচল সীমিত করার উদ্দেশ্যে নগরীর প্রবেশদ্বারগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার জন্য চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। রাজশাহী মহানগরী সুরক্ষার জন্য ৬ এপ্রিল প্রবেশদ্বারগুলোতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং শহরে অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলও সীমিত করে দিয়ে লকডাউন করে দেয়া হয়। শহরের অধিকাংশ অটোরিকশা গ্যারেজগুলোতে পুলিশের সদস্যরা নিয়মিত টহলের মাধ্যমে অটোরিকশার চলাচল সীমিত করে। শহরের কাঁচা বাজারগুলোতে মানুষের ভিড় কমাতে নেয়া হয় বিভিন্ন কৌশল। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার জন্য বাজারে গমনাগমন সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। প্রায় ২০০ ভ্যান প্রস্তুত করে ভ্যানের মাধ্যমে কাঁচা সবজি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। বাজারের ভেতরের রাস্তাগুলোতে ভিড় কমাতে একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গাড়িগুলো ব্যবহার করে জীবাণুনাশক পানি ছড়ানো হয়। এর পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। ইউনিট এবং থানাগুলোর প্রবেশ মুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করা হয়। মসজিদে লিফলেট বিলিসহ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। সচেতনতামূলক ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে ডিজিটাল প্রচারণাও চালানো হয়। বিশেষ করে কোয়ারেন্টাইন থাকা ব্যক্তির পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে অযথা ভয় দূর করে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং করা হয়।

রাজশাহী মহনগরীতে করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণকে স্বাস্থ্য সচেতন করা, নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্কসহ সব ধরনের পিপিই পরিধান করে চলাফেরা করার অনুরোধ জানিয়ে ক্যাম্পেইন করাসহ মাস্ক বিতরণ করা হয়। করোনা আক্রান্ত সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদা অনুযায়ী ঘরে ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়। কোভিড-১৯ এর মহামারির কারণে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কাজের পরিধি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি থাকায় আরএমপির সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়। পুরুষ ব্যারাক সমূহকে চারটি ও নারী ব্যারাক সমূহকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। যাতে করে ব্যারাকের কেউ আক্রান্ত হলে যেন সহজেই ব্যারাক লকডাউন করে অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে কার্যক্রম চলমান থাকে। শাহমখদুম এলাকায় পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবিরের পৃষ্ঠপোষকতায় ৭০ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর মাঝে চাল, চিনি ও সেমাই বিতরণ করা হয়। রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার দুস্থ জনগণের মাঝে পুলিশ কমিশনার মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এছাড়াও কমসংখ্যক পুলিশ সদস্যের ডিউটিতে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যে সব সদস্য ঝুঁকিপূর্ণ ডিউটিতে যাচ্ছেন তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য শতভাগ পিপিই নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ব্যারাকের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ সদস্যদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন-সি, ডি ও জিংক ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের খাবারের মান উন্নত করা হয়েছে। নিয়মিত রোলকলে ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যেকটি সদস্যকে সচেতন করতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেখানে সারা দেশে অসংখ্য পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত সেখানে এ পর্যন্ত রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮০ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা এবং তার যথাযথ বাস্তবায়নের কারণেই এ অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। এসব সময়োচিত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণেই মহানগরীতে করোনার প্রকোপ সেভাবে হানা দিতে পারেনি। রাজশাহী মহানগরীতে করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। আক্রান্ত রোগীদের প্রত্যেককেই পুলিশের সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর মাধ্যমে যথাযথ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে এবং তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

গোলাম কিবরিয়া, পুলিশ কমিশনার (সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ) : সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশের সব ইউনিটের পাশাপাশি সিএমপির সদস্যরাও কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলায় কাজ করছেন। সরকার ও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেয়া নির্দেশনাগুলো সুচারুরূপে বাস্তবায়ন করছে সিএমপি। এরই মধ্যে ঈদুল আজহা আসন্ন। ঈদে পশুরহাটকে কেন্দ্র করে জনসমাগম ও মেট্রোপলিটন এলাকা জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সিএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে কথা হয় আমার সংবাদের। তিনি আমার সংবাদকে সরকারের নির্দেশনা মেনে যা যা করার তার সবই বাস্তবায়ন করবেন বলে জানান। যদিও এখনো সময় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রেখে পশুরহাট যেভাবে চালানোর দরকার সেভাবেই আমরা করবো। করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কতজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সিএমপির ১১৫ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯১ জন।

মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ, পুলিশ কমিশনার (রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ) : করোনা সংকটের মধ্যেই আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা. আবদুল আলীমের সঙ্গে কথা বলেছে আমার সংবাদ। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে সবমিলিয়ে ৯টি হাট বসবে। হাটগুলোতে যারা পশু ক্রয়ের জন্য আসবেন তারা যেন আগের মতো দলবেঁধে না আসেন বরং যত কম সংখ্যক লোক আসা যায় সে ব্যাপারে আমরা ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি। মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। হাটে যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে। বিক্রেতা ও ইজারাদারদের সচেতন করার চেষ্টা করছি তারা যেন গরু দূরে দূরে বাঁধে। আগে যেখানে পাঁচটি সারিতে গরু বাঁধা হতো, সেখানে দুটি সারি, যেখানে দুটি সারিতে বাঁধা হতো সেখানে একটি সারিতে বাঁধার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করছি, সাবান পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করার ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইজারাদারদের সাথে আজ মিটিং করেছি এবং সবগুলো বিষয়ে তাদের করণীয় সম্পর্কে বলেছি। এছাড়া এ বছর রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকার কোথাও রাস্তার পাশে বাজার বসবে না বলেও জানান তিনি। হাটগুলোকে বড় বড় মাঠে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলছেন ইজারাদারদের। যেমন- স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাজার বসানোর ব্যবস্থা করছেন বলেও জানান তিনি।

করোনা সংকট শুরুর পর থেকেই এখন পর্যন্ত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কতজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন জানতে চাইলে ১০২ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান পুলিশ কমিশনার মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ।

আনোয়ার হোসেন, পুলিশ কমিশনার (গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ) : মানবিক ভূমিকায় পুলিশবাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আগামী দিনেও মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন এই সবার প্রতিজ্ঞা। গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ত্রাণ, রোজায় ইফতারসামগ্রী বিতরণ করেছে। একইভাবে করোনায় আক্রান্তদের হাসপাতালে নেয়া, চিকিৎসা, ওষুধপথ্যের ব্যবস্থা করা, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের লাশ দাফন, আক্রান্তদের হাসপাতালে নিয়ে আসার মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে পুলিশ। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বেশকিছু পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। মারাও গেছেন। তবুও থেমে নেই মানবসেবা। পুলিশ হবে জনতার। পুলিশের এই স্লোগানের যথার্থতার প্রমাণ মেলে এই করোনাকালে তাদের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে যে মানবিক ভূমিকা রেখে চলেছে তাতে। টানা লকডাউনে গরিব, সহায়-সম্বলহীন, অসহায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা, রোজায় ইফতার, ঈদসামগ্রী সহায়তা দিতে গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। দক্ষ, চৌকস, কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয় এই টিম। এই টিমের কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক তদারকি, মনিটর করা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা দায়িত্বরত আছেন। তবে এসব কর্মকাণ্ড সামগ্রিকভাবে সার্বক্ষণিক ও নিয়মিত তদারকি করছেন স্বয়ং গাজীপুর পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন।

করোনাযুদ্ধে সম্মুখসারির যোদ্ধার ভূমিকায় অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে নিরন্তর দায়িত্ব পালন করে আসছেন পুলিশ সদস্যরা। করোনা রোগীদের হাসপাতালে নেয়া, চিকিৎসার, সেবার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি গরিব, অসহায় রোগীদের পরিবহনের জন্য সার্বক্ষণিক চালু রেখেছে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। আর্থিক সহায়তা দিয়ে, সেবা দিয়ে, চিকিৎসা ও ওষুধক্রয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ। রথখোলা, হারিনাল বাজার, মুক্তমঞ্চ, ধীরাশ্রম বাজার, জয়দেবপুর রেলস্টেশনে জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসময় জনসাধারণকে মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব ও সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পরামর্শ দেয়া হয়। জনস্বার্থে গাজীপুর মহানগর পুলিশের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়াও নবজাতককে বিক্রি করে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করলেন দরিদ্র মা। পরে গাজীপুর পুলিশের সহায়তায় ফিরে পেলেন তার সন্তানকে। গাজীপুর পুলিশ কমিশনার বিষয়টি জানতে পেরে নিজেই হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন এবং নবজাতককে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন মানবিক আবেদনে সারা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন এবং নবজাতক শিশুটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন। এই পুলিশ কমিশনার মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।

আমারসংবাদ/বিবি