মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০

২০ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ২১,২০২০, ০১:০০

জুলাই ২১,২০২০, ০১:০৪

করোনাযুদ্ধে জেলা প্রশাসকরা

করোনা মোকাবিলায় সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে মাঠপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান ‘জেলা প্রশাসন’। যার নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা প্রশাসক। করোনা সংকটের শুরু থেকেই তৎপর দেশের সকল জেলা প্রশাসক। ত্রাণ সহায়তা থেকে শুরু করে সার্বিক কার্যক্রমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বসাধারণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে করোনা মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ঈদুল আজহা আসন্ন। ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাট, হাটকে কেন্দ্র করে জালটাকা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে হাট পরিচালনার লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। সেসব কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করছেন, সে বিষয়ে জানতে চেয়ে সম্প্রতি দেশের সকল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছে আমার সংবাদ। তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বশির হোসেন খানকে নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন নুর মোহাম্মদ মিঠু

আবুল ফজল মীর, জেলা প্রশাসক (কুমিল্লা) : করোনা ভাইরাসে যেখানে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব, সেখানে বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রতিদিনই একটা নির্দিষ্ট হারে মারা যাচ্ছে মানুষ। গত ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কিছুটা অবাধ চলাচলের কারণে এ ভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটাই বেড়ে যায়। শুরু থেকেই এ ভাইরাস মোকাবিলা করে কুমিল্লাবাসীকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। যার নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর। চলমান করোনা সংকটের এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেই আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের আরও একটি চ্যালেঞ্জ কুমিল্লা জেলা প্রশসান তথা গোটা বাংলাদেশের সামনে আসছে। এ সংকট মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, আমাদের পদক্ষেপ হলো- আমরা অনলাইন গরুরহাট করেছি। সেখানে আমরা যেসব গরু বিক্রি হবে খামার থেকে সেগুলোর ছবি, বিবরণ, সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণসহ তালিকা করেছি। দু-একদিনের মধ্যেই আমাদের অ্যাপসটি চালু হবে। অ্যাপসের মাধ্যমেই সবাই গরু কিনতে পারবে। আমরা সবাইকে অনরোধ করবো অনলাইনে গরু কেনার জন্য। তারপর কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরু বাজার-হাটে নেয়া হবে, সেক্ষেত্রে ‘নো মাস্ক-নো এন্ট্রি’ আমরা বলেছি। মাস্ক ছাড়া কেউ বাজারে প্রবেশ করতে পারবে না এবং বাজার কমিটিকে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, পাশাপাশি বাজারগুলোতে গরু বাঁধার ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেই গরু বেচাকেনা করতে হবে। বাজারের আয়তনের হিসেবে গরু উঠাতে হবে বাজারে, যাতে বেশি গরু না উঠে। এসব বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিত করার লক্ষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন কাজ করছি।

মো. ওয়াহিদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক (ফেনী) : একই বিষয়ে ফেনীর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে কথা হয় আমার সংবাদের। তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে একাধিকবার মিটিং করেছি। গতকালও একটি মিটিং করেছি। করোনা সংকটে আমরা ইতোমধ্যে যে কার্যক্রমগুলো গ্রহণ করেছি, সেগুলো যাতে অব্যাহত রাখা যায়, বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিধি এবং হাসপাতালগুলোতে যাতে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেয়, অক্সিজেন সরবরাহ যাতে ঠিকমতো থাকে আর অন্যান্য সমস্যাগুলোও যাতে সমাধান হয়। আর একটি বিষয় হলো- নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার বিষয়টি ঠিক রাখা, জনবল ঠিক রাখা, ডাক্তার ঠিক রাখার বিষয়ে আমরা মিটিং করেছি। সচিব মহোদয় এবং সরকার থেকে একটি নির্দেশনা পেয়েছি আমরা। আমরা কিভাবে এটা মোকাবিলা করবো, ঈদে অনেক লোক আসবে, তারা এদিক-ওদিক যাবে এবং গরুর হাটেও যাতে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে সে বিষয়ে আমরা মিটিং করেছি। হাটগুলো যত নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, বিশেষ করে যেসব লোকজনের কাজ নেই তারা যেন হাটে না আসতে পারে। প্রতিটি স্থানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা সবাই যেন মাস্ক ব্যবহার করে সেটা নিশ্চিত করা।

আর একটা বিষয় হলো, হাটের চেয়েও অনলাইনে যাতে গরু বিক্রি বাড়ানো যায়, সেক্ষত্রেও আমরা একটা পদক্ষেপ নিয়েছি, গরুর দামের বিষয়টিও আমরা দেখছি, আর একটা হলো জাল টাকা রোধ করা। হাটগুলোতে সামাজিক দূরত্ব যাতে বজায় থাকে, গরু বাঁধার খুঁটি যেন দূরে দূরে থাকে- সে ব্যবস্থাও নিশ্চিতের জন্য আমরা কাজ করছি। গরু ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন একই বাজারে কেন্দ্রীভূত না হয়। সেটাও আমরা বলছি। কোনো হাইওয়েতে গরু বাজার বসবে না, কোনো রেলস্টেশনের কাছাকাছিও বাজার থাকতে পারবে না। খোলা মাঠে আবার কাদার মধ্যে নয়, যেখানে অন্তত মানুষের যাতায়াতে সহজ হয়, সেখানে বাজার বসাতে হবে। এ কাজগুলো আমরা নিশ্চিত করছি। প্রচার-প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছি বলে জানান তিনি।

হায়াত উদ দৌলা খান, জেলা প্রশাসক (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) : এ জেলায় শুরু থেকেই সরকারের স্থানীয় মন্ত্রী, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সবার সঙ্গেই সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান। আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় আমার সংবাদের। জানা যায়, শুরু থেকেই কীভাবে করোনা মোকাবিলা করছে জেলা প্রশাসন। আগামী দিনগুলোতেও কীভাবে জনগণের পাশে থেকে করোনা মোকাবিলা করা যায় বলেছেন সে বিষয়েও। তার মধ্যে আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে জেলা প্রশাসন একাধিকবার মিটিং করেছে বলে জানান। তিনি বলেন, মিটিংয়ের মাধ্যমে আমরা দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি। আসন্ন ঈদুল আজহার পশুরহাট অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে করতে হবে- ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলে দিচ্ছি। হাটে স্বেচ্ছাসেবকরা মাস্কের বিষয়টি দেখবে এবং ইজারাদাররা স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য স্যানিটাইজার ব্যবস্থা রাখবে, সেজন্য তাদের নির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়া সচেতনতামূলক প্রচারণা আমাদের চলমান প্রক্রিয়া।

আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনলাইনে পশু বেচাকেনার অ্যাপস তৈরি করেছি। ইতোমধ্যে প্রায় একশোর মতো খামারির তিন হাজারের মতো পশুর তথ্য ওই অ্যাপে দেয়া আছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ, স্থানীয় ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান তাদের সমন্বয়ে আমরা এটি করছি, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা হাটে না গিয়ে সহজেই অনলাইনে পশু বেচাকেনা করতে পারে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ব্যাপক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি, মানুষকে সচেতন করছি। স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এ পর্যন্ত আমরা ছয় হাজারের বেশি মানুষকে বিভিন্ন উপজেলায় জরিমানা করেছি। এছাড়া জেলায় করোনা রোগী পাওয়া গেলে আমরা জেলা প্রশাসন তাদের সব ধরনের সহযোগিতাপূর্বক পাশে থাকার চেষ্টা করছি। খাবারের প্রয়োজন হলে খাবার পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের কন্ট্রোল রুম আছে, সেখানে ফোন দিলেই আমরা পাশে থাকার চেষ্টা করছি। গত চার মাস ধরেই আমরা এভাবে কাজ করছি। রেড জোন এলাকায় লকডাউন বলবৎ ছিলো শতভাগ। সেনাবাহিনীও কাজ করছে এখানে, পাশাপাশি ব্যাপক সংখ্যক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং করছি। আমরা প্রায় তিন লাখ পরিবারের কাছে আর্থিক সহায়তাসহ ত্রাণ বিতরণ করেছি। শিশুখাদ্যসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন চাল ও প্রায় আড়াই কোটি টাকা আমরা অসহায় মানুষের মাঝে বিরতণ করেছি। ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করেছি। করোনা মহামারিতে জীবন ও জীবিকা সাধনের লক্ষ্যে এ জেলায় ব্যাপক কর্মযজ্ঞ এখনো চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, কুরবানি ঈদে একদিকে যেমন ধর্মীয় অনুভূতির বিষয় আছে অন্যদিকে অর্থনীতিরও একটা সংশ্লিষ্টতা আছে। এখানে হাজার হাজার খামারি গরু পালন করেছেন, গরুগুলো যদি তারা বিক্রি করতে না পারেন তারাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এজন্য আমরা অনলাইনে বেচাকেনার জন্য নাগরিকদের উৎসাহিত করছি। তারপরও হাটে যারা যাবেন তাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

ঈদের জামাতের ব্যাপারে আমাদের কিছু পরামর্শ আছে। ইতোমধ্যে আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। ঈদের জামাত যেন মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পড়ানো হয় এবং মানুষ যেন আমাদের নির্দেশনাগুলো প্রতিপালন করে সেজন্য প্রচার-প্রচারণা করছি। জনগণকে সাথে নিয়েই আমরা কাজ করছি। সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যে নির্দেশনা সেসব মেনেই আসন্ন ঈদুল আজহার জামাত হবে। গণমাধ্যমে ইতিবাচক লেখালেখির কারণে জনগণ সচেতন ও উদ্বুদ্ধ হয় জানিয়ে তিনি মহামারি মোকাবিলায় গণমাধ্যমকে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সহযোগিতা কামনা করেন।

এ কে এম মামুনুর রশিদ, জেলা প্রশাসক (রাঙ্গামাটি) : আমার সংবাদকে আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে চলমান করোনা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার বিষয়ে মুঠোফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এ জেলার প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে পশুরহাটের বিষয়ে আমাদের রাঙ্গামাটিতে মাত্র একটি গরুরহাট বসবে। এখানে অন্যান্য জেলার মতো পশু নিয়ে এতো চাপ নেই। কারণ এখানে অর্ধেকের মতো লোকজনই হচ্ছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। প্রতিবছর আমাদের একটা গরুরহাট বসে পৌরসভায়, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য এটাকে আমরা এবার দুটি স্থানে স্থানান্তর করেছি।

তিনি বলেন, আমরা এবার মাস্ক ছাড়া ক্রেতাদেরও হাটে ঢুকতে দিবো না। আবার বিক্রেতাদেরও ঢুকতে দিব না এবং একটা গরু থেকে আরেকটা গরু মিনিমাম তিন ফুট থেকে চার ফুট দূরত্বের খুঁটিতে বাঁধতে হবে। বয়স্ক, অসুস্থ বা বাচ্চাদের হাটে প্রবেশে নিষেধ করবো। সেখানে আমাদের জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের লোকজন থাকবে, মাইকে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সার্বক্ষণিক বলা হবে। সেখানে আমাদের মোবাইল কোর্ট থাকবে। অর্থাৎ স্বাস্থ্য বিভাগের যে গাইড লাইন আছে, সে গাইড লাইনটা পরিপূর্ণভাবে প্রতিপালন করার জন্য যা যা করার দরকার, আমরা মিটিং করেছি, প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি এবং সেসব বিষয়ে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। জুম্মার দিনে আমরা গরুরহাটে যাওয়ার সময়ে কিভাবে যেতে হবে, কোথায় কুরবানি দিতে হবে এসব বিষয়গুলো নিয়ে বিশদভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি বলেও জানান তিনি।

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, জেলা প্রশাসক (নোয়াখালী) : করোনা মোকাবিলায় শুরু থেকেই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এ জেলার অভিভাবক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। তার সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয় আমার সংবাদের। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, আমরা কুরবানির ঈদের হাট অনেকটা কমিয়ে নিয়ে আসছি এবং ঈদের হাট যেগুলো হবে, সেগুলো বড় জায়গায় করার ব্যবস্থা করেছি। ছোটো জায়গায় কোনো হাট হবে না এবার। পশুরহাটে যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটা গরু থেকে আরেকটা গরু দাঁড় করানো হয় সে বিষয়ে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। মিনিমাম তিন ফুট দূরত্ব মেনে যাতে গরু রাখে সেটা আমরা নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি তদারকি করেও দেখবো বলে ইজারাদারদের জানিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু বিধির কথা বলা আছে, আমাদেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গরুরহাটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিধিগুলো যেন মেনে চলা হয় এবং সেসব বিধি মানার ব্যবস্থা করে সেজন্যও ইজারাদার এবং হাট সংশ্লিষ্ট যারা আছে, সবাইকে আমরা জানিয়েছি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে- আমরা প্রতিটি গরুর হাটে যেন সুনির্দিষ্টভাবে পুলিশ থাকে, মোবাইল কোর্ট থাকে তা নিশ্চিত করছি। এছাড়াও আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে, মেডিকেল টিমও থাকবে হাটগুলোতে। আর আমরা চাচ্ছি- সবাই মাস্ক নিয়ে যেন গরুরহাটে যায়। এ উদ্যোগগুলো আমরা নিচ্ছি। এছাড়াও আমাদের এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের জন্য ইজারাদারদের ডেকে এ সপ্তাহেই একটি মিটিং করবো। সবাইকে বিষয়গুলো জানিয়ে দিবো এবং বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা আমরা দিয়ে দিবো।

মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, জেলা প্রশাসক (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। তার জেলায় সাড়ে ১২ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত। ১২ হাজারের বেশি আক্রান্ত জেলায় আসন্ন ঈদুল আজহায় কীভাবে পশুরহাট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করবেন জানতে চেয়ে মুঠোফোনে তার সঙ্গেও কথা হয় আমার সংবাদের। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, পশুরহাট আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর হাট হয়তো কিছুটা কম হবে, তবে আবার বেশি কমিয়ে দিলেও দেখা যাবে লোকজনের ভিড়টা এক জায়গায় বেশি হবে। এ জন্য যে কয়টা পশুরহাট বসবে বা আমরা যে কয়টা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো, মোটকথা আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেই আমরা পশুরহাট দিবো। প্রত্যেকটা পশুরহাটে প্রবেশ এবং বাহির দুটো আলাদা পথ থাকবে এবং সেখানে হাত ধোয়ার জন্য সাবান-পানি থাকবে। যারা ইজারাদার তাদের আগে থেকেই বলা হবে এবং পশুরহাটে মাস্ক ছাড়া আমরা কাউকে প্রবেশ করতে দিবো না। যারা ক্রেতা থাকবে তারাও মাস্ক পরে ঢুকবে, যারা বিক্রেতা থাকবে তারাও মাস্ক পরা থাকবে।

চট্টগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আগের দিনগুলোতে দেখেছি এখানকার মানুষের ধ্যানধারণা ছিলো যে গরু কিনতে হলে ৫-৬-৭-৮ জন করে যেতে হবে, এবার সেটা আমরা সীমিত করার চেষ্টা করছি। এটা যাতে না হয় সে লক্ষে কাজ করছি। আরেকটা জিনিস আমরা করছি- অনলাইনভিত্তিক যে বেচাকেনা সেটাকে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি এবং জনসাধারণকে উৎসাহ দিচ্ছি এবং ফার্মে ফার্মে যাতে গরু বেচাকেনা করতে পারে, সেজন্যও তাদের আমরা উৎসাহিত করছি। তিনি আরও বলেন, এ ফার্মগুলো যাতে গরু বিক্রি করতে পারে সেজন্য আমরা ফেসবুক পেজ খুলেছি, ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়াও পাওয়া গেছে। লোকজন রাত ১০-১২টা নাগাদ ফার্মে গিয়েও গরু কিনছে। এভাবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যাতে কুরবানির হাটের সময়ে হাটে যাতে লোকসমাগম কম হয় এবং হাটে আসার পূর্বেই মানুষ যাতে বিভিন্ন ফার্মগুলো থেকে গরু কিনে এবং অনলাইনের মাধ্যমে- এটা আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।

মো. কামাল হোসেন, জেলা প্রশাসক (কক্সবাজার) : আমরা ইতোমধ্যেই আমাদের নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান যারা আছেন তাদের সঙ্গে মিটিং করেছি। যে হাটগুলো বসবে তার মধ্যে স্থায়ী এবং অস্থায়ী দুই রকমের হাটই আছে। প্রথমত, আমরা হাইওয়েতে এ বছর কোনো হাট দিচ্ছি না। দ্বিতীয়ত, হাটগুলোতে বাঁশ দিয়ে একটা ব্যারিফেরি তৈরি করা হবে- এতে প্রবেশ এবং বাহির দুইটা পথই আলাদা করা থাকবে। প্রবেশপথে আমাদের কিছু গ্রাম পুলিশসহ স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবে। প্রবেশপথে মাস্ক পরে কিংবা হাত ধুয়ে হাটে প্রবেশ করলো কীনা এ বিষয়গুলো মনিটরিং করা হবে। হাটে গরুগুলো যেখানে রাখা হবে, সেখানে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেই খুুঁটিগুলো গাঁথতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্যবিধি যেটি আছে (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সরকারের) সে বিষয়ে আমাদের উপজেলা এসিল্যান্ড যারা আছে, তারা হাটবারে কিংবা হাটগুলো যেখানে বসে সেখানে মনিটরিং করবে। আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আমার সংবাদের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, মূলত আমরা প্রচার এবং সচেতনতার জায়গাটুকুতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে নিয়মিত করছি, আমাদের যে পেইজ আছে সেখানেও প্রচারণা চালাচ্ছি। আর একটা কাজ আমরা করেছি সেটি হলো অনলাইন পশুরহাট। যারা চাষি, খামারি বা গরু পালন করে তাদের গরুর ছবি, মালিকের নাম-ঠিকানা মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে দিচ্ছি। তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেই যে কেউই গরু ক্রয় করতে পারবে। আমরা অনলাইন মার্কেটের মাধ্যমে আমাদের ফেসবুক পেজে উপজেলাভিত্তিক গরু, ছাগল, মহিষ মালিকের নাম-ঠিকানাসহ আপলোড করছি। এখান থেকেও ক্রেতা-বিক্রেতা পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। এতে কিছুটা হলেও ভিড় কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তিনি। আরেকটা নির্দেশনা সরকারের আছে যে- দুইজনের বেশি কেউ যেতে পারবে না। এটা মানিয়ে চলা যদিও কঠিন। কারণ পরিবারের সদস্য কে কার সেটা বুঝা মুশকিল। তারপরও আমরা চেষ্টা করবো।

ড. ফারুক আহাম্মদ, জেলা প্রশাসক (সিরাজগঞ্জ) : ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঘরে বসে অনলাইনে পশুরহাট www.poshurhaat.com নামে পশু বেচা-কেনার মোবাইল অ্যাপস চালু করা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেই পশু সংগ্রহ করা যাবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, করোনাকালীন দেশের এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। করোনার ফলে সারা বিশ্বে একদিকে যেমন অনেক মানুষ কাজ হারাচ্ছে, তেমনি তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর অনেক নতুন পেশা ও কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অনলাইনে কুরবানির পশু বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক তরুণ খামারি ন্যায্য দামে তাদের গরু-ছাগল বিক্রি করতে পারবেন। মানুষ যেন প্রতারিত না হয় সেই জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষদের মাস্ক দেয়া হয় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পরামর্শ দেয়া হয়। বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করেছেন।

জানা যায়, সরকার নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখা, পথচারীসহ ব্যবসায়ীদের মাস্ক ব্যবহার না করা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় দণ্ডবিধি ও জরিমানা করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এছাড়া সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার রোধে, জনসেচতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। গণজমায়েত রোধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহনের নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে উপযুক্ত অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

কবীর মাহমুদ, জেলা প্রশাসক (পাবনা) : জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, করোনা থেকে রক্ষায় জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। শহরের প্রধান সড়ক ও জনসমাগম এলাকাগুলোতে লিফলেট বিতরণ করা হয়। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে ঘুরছে কিনা তা তদারকি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কুরবানির পশুরহাট বসানো হবে। যাতে করে সমাগম না ঘটে সেদিকে তদারকি করা হবে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। এটি একটি সাধারণ অসুখের মতোই। যারা হার্টের রোগী, কিডনি দুর্বল, ফুসফুসে অসুখ সর্বোপরি বয়স্ক ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশ ফেরত এক ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

মো. জিয়াউল হক, জেলা প্রশাসক (বগুড়া) : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে এবারের কুরবানির ঈদে অন্যবারের মতো জনগণের অবাধে ঘোরাফেরার সুযোগ থাকবে না। এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় কেউ যেতে পারবেন না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। যারা বের হবেন তাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরত্ব বজায় রেখেই পশুরহাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ঢাকা বা অন্য জেলা থেকে কাউকেই বগুড়ায় ঢুকতে দেয়া হবে না।

এছাড়া করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝেও নিয়মিত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। কর্মহীন পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান বিতরণে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ, শহরে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভার মাধ্যমে জীবাণুনাশক ছিটানো হয়েছে। করোনার প্রভাবে হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে নানা রকমের সহযোগিতা দিয়ে পাশে ছিলেন জেলা প্রশাসক। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সরাসরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয় বলে জানান তিনি।

আব্দুল জলিল, জেলা প্রশাসক (রাজশাহী) : স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঈদুল আজহায় রাজশাহীতে বসবে পশুরহাট। করোনা মোকাবিলা করে রাজশাহীতে পশুরহাট পরিচালনার ব্যাপারে নতুন কর্মকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানাবিধ পদক্ষেপ। রাজশাহীর পশুরহাটে দুর্যোগকালীন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। এর আওতায় কুরবানির পশু কেনাবেচার জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে উৎসাহ দেয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুরহাট পরিচালনা, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জালটাকার ব্যবহার রোধে করণীয় বিষয়েও গুরুত্ব নেয়া হবে বলে জানান রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

এ ছাড়াও করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকেই রাজশাহী নগরীসহ চারঘাট ও গোদাগাড়ী উপজেলা এখন রয়েছে করোনামুক্ত। প্রায় আট লাখ মানুষ বসবাস করা এই নগরী এখনো করোনামুক্ত থাকার পেছনে শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা আর জনসচেতনতাই প্রধান কারণ। এজন্য শুরু থেকে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক। মানুষের সচেতনতা ও নিরাপত্তায় সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেয় রাজশাহী জেলা প্রশাসন। এজন্য সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নানা ভূমিকা নেয়া হয়। বিশেষ করে মহানগরীকে লকডাউন ঘোষণার পর বাইরে থেকে কারো প্রবেশ এবং তার হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কুরবানিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দোকান খোলা রাখা হবে। তবে কোনোভাবেই লোক সমাগম হতে দেয়া হবে না। এতে করে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম থাকবে। প্রথম থেকেই অন্য জেলার সঙ্গে রাজশাহীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করেছি। সেই সঙ্গে রাজশাহীতে ল্যাব চালু করেছি। যেটা অন্য জায়গায় নেই। এরপর প্রথম থেকেই পিপিই, কিট আনা, স্যানিটাইজার বিতরণ, ডাক্তার, নার্সসহ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে করোনা প্রতিরোধে কাজ করছেন জেলা প্রশাসক। এভাবেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক। যাতে রাজশাহী করোনামুক্ত থাকে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, বিদেশফেরত ও অন্য জেলা থেকে আগতদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছি। সেই সঙ্গে পজিটিভ রোগীদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাদের বাড়িতে খাবার ও ওষুধ নিয়মিত দিয়ে আসা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোকে করোনার জন্য প্রস্তুত সব সময়। এছাড়াও বাজার মনিটরিং, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রত্যেকদিন ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিল গঠন করা, হটলাইন ও ফেসবুকের মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। দিনমজুর, কর্মহীনদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ত্রাণ তহবিলের খাদ্যসামগ্রী সঠিকভাবে পৌঁছানো হয়েছে। কেউ অন্যায় করলে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তিনি জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসবে পশুরহাট। করোনা মোকাবিলা করে পশুহাট পরিচালনার ব্যাপারে নতুন কর্মকৌশল নেয়া হয়েছে। কুরবানিতে ঘরমুখো মানুষের নানা পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে করে কেউ নতুন করে আক্রান্ত না হয়।

মো. শাহরিয়াজ, জেলা প্রশাসক (নাটোর) : নাটোর জেলায় করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কুরবানির পশুরহাটে অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয় করা। ঘরে বসেই পছন্দ মতো গরু-ছাগল কেনা যাবে। এছাড়া করোনা প্রতিরোধে অসহায়দের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, স্যানিটাইজারসহ জীবাণুনাশক নানা উপকর বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী বেশকিছু এলাকায় লকডাউন করা হয়। জেলার বাইরে থেকে কেউ নাটোর প্রবেশ করলে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। যাতে কুরবানিতে ঘরমুখো মানুষ এলাকায় এলে আক্রান্তের সংখ্যা না বাড়ে। সেই বিষয় চিন্তা করেই নানা পদক্ষেপ নেবেন জেলা প্রশাসক।

নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, আক্রান্ত হলেই এলাকা লকডাউন করা হয়। তাছাড়া আক্রান্তরা বেশির ভাগ সুস্থ রয়েছেন। কেউ হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে চিকিৎসা নিতে চাইলে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে নাটোর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

মো. শরীফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক (জয়পুরহাট) : জয়পুরহাটে করোনা প্রতিরোধে সব সময় তৎপর জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসকের কঠোর অবস্থানের কারণে দিন দিন সুস্থতার হার বাড়ছে। এই জেলায় করোনা মোকাবিলার পদ্ধতি ভিন্নতর। এখানে আধুনিক হাসপাতাল ও চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নবনির্মিত ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি ক্যাম্পাসে একটি আইসোলেশন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও জেলা শহরের কাছে টিটিসিতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে এবং কালাই সরকারি মহিলা কলেজ ও পাঁচবিবি মহিলা কলেজকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইন না মানা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রেখে তাদের টেস্ট করানো হচ্ছে।

জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, পশুরহাট নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে অনলাইন বেইজ পশুরহাট হলেই ভালো। তাহলে আর আক্রান্তের ভয় থাকবে না। ইতোমধ্যে নানা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যাতে করে কেউ নতুন করে আক্রান্ত না হয়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জয়পুরহাট জেলাকে লকডাউন রাখা হবে। এছাড়া জেলায় এ পর্যন্ত তিনশরও বেশি মানুষকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

এ জেড এম নুরুল হক, জেলা প্রশাসক (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হকের কঠোর অবস্থান অর্থাৎ সামাজিক দূরত্ব মানায় এবং রোগী শনাক্তের পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। জানা গেছে, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রুখে দেয়ায় করোনা কম ছড়িয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কঠোরভাবে কোয়ারেন্টাইন মেন্টেন, আসন্ন কুরবানি ঈদের সময় হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণসহ বিদেশফেরতদের আইসোলেশনে রাখা হবে। জেলা প্রশাসকের কঠোর অবস্থানের কারণে এই জেলায় নিয়ন্ত্রিত রয়েছে করোনা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেন, বিদেশফেরত প্রবাসীদের প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম আইসোলেশনে থাকতে বাধ্য করা হয়। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিরে আসা বাসিন্দাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া মাত্র কঠোরভাবে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়। কুরবানির পশুরহাট অনলাইন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পশুরহাট বসানো যায় কিনা সে বিষয়ে ভাবছেন জেলা প্রশাসক।

হারুন আর রশীদ, জেলা প্রশাসক (নওগাঁ) : করোনা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসক। জনস্বার্থের কথা চিন্তা করেই নওগাঁবাসীকে অযথা ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় করোনা ভাইরাস শনাক্ত বা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও নওগাঁ জেলার মানুষ অনেকটা ভালো আছে। জেলা প্রশাসকের কঠোর অবস্থানের কারণেই নওগাঁবাসী সুস্থ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই কুরবানির পশুরহাট বসানোর কথা ভাবছে জেলা প্রশাসক। এছাড়া অনলাইনে গরু বিক্রি হবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সেই শুরু থেকেই নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. হারুন আর রশিদ রাতদিন মাঠে নেমে দিকনির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি ৯৯টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভার অলিগলিতে গিয়ে ব্যাপক জনসচেতনা গড়ে তুলেছেন। দেশের বাইরে থেকে আসাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লোকজনের প্রতি দৃষ্টি রেখে এবং ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা ও নিশ্চিত করার পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ভালো উদ্যোগ নেয়ার কারণেই নওগাঁবাসী অনেকটা ভালো আছে।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন আর রশীদ বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। নিজ নিজ ঘরে থাকার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রীও পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

মো. জোহর আলী, জেলা প্রশাসক (ঝালকাঠি) : মহামারি করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কুরবানির পশুরহাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী। করোনা সংক্রমণ রোধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যাতে কুরবানিতে ঘরমুখো মানুষের কারণে এলাকায় করোনা আক্রান্ত সংখ্যা না বাড়ে। সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক জোহর আলী বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রথম যেটা দরকার সেটা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সমগ্র জেলাতে সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়েছি, হাট-বাজারগুলোকে উš§ুক্তস্থানে দূরত্ব বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করেছি। বিশেষ করে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের কন্টাক্টিং সোর্স যারা ছিলেন তাদের খুঁজে বের করে হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করেছি। সেটাই এখনো আমাদের বড় সফলতা।

তিনি আরও বলেন, শহরের মধ্যে, আবাসিক এলাকায় এবং সড়কের উপরে কুরবানির পশুরহাট বসানোর কোনো অনুমোদন দেয়া হবে না। শহরতলীর নির্জন ও পরিত্যক্ত খোলামাঠে এ হাট বসানোর অনুমতি দেয়া নিয়ে আমাদের আলোচনা শেষে ঝালকাঠি শহরতলীর বিকনা এলাকায় শহীদ ক্যাপ্টেন বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্টেডিয়ামে অস্থায়ীভাবে পশুরহাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।

মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক (পটুয়াখালী) : করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুরহাট বসানো, ঘরমুখো মানুষ নিয়ে নানা পরিকল্পনা নিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়া পটুয়াখালী নদীবন্দরে যাত্রীবাহী লঞ্চে ভাসমান কোয়ারেইন্টাইন ইউনিট চালু করেছেন। নদীবহুল পটুয়াখালী জেলার জনসাধারণকে করোনার প্রভাব থেকে নিরাপদ রাখতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নৌপথে আগত যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইন যথাযথভাবে নিশ্চিতের লক্ষ্যে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের দেখভাল করার জন্য রয়েছে ডাক্তার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। ভাসমান এই কোয়ারেন্টাইন ইউনিটে কর্মকর্তাদের সুরক্ষার জন্য জেলা প্রশাসক তাদের মাঝে ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেন। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এ ভাসমান কোয়ারেন্টাইন ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কর্মহীন মানুষের ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে আছেন জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা, স্যানিটাইজার বিতরণসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যাতে করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা না বাড়ে। এছাড়া ঘরমুখো মানুষের জন্য রয়েছে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা।

আবু আলী মো. সাজ্জাদ, জেলা প্রশাসক (পিরোজপুর) : করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক-শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মানুষের মাঝে মাস্ক, স্যানিটাইজার, ভ্রাম্যমাণ সবজি বাজারসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন। পাশাপাশি শর্ত দিয়ে দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছে। তবে হাটবাজারে ক্রেতাদের সমাগম না করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে দুটি ট্রাক ও ১২টি ভ্যানে করে এলাকায় এলাকায় গিয়ে এ সবজি মানুষের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও শহর সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর পাড় এলাকায় নৌকায়ও বিক্রি হচ্ছে সবজি।

জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য শহরের পৌর বাজারের কাঁচা বাজার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে এ কারণে মানুষের যেন কোনো সমস্যা না হয় তাই শহরের প্রতিটি এলাকায় সবজি পৌঁছে দিতে ভ্রাম্যমাণ সবজি বাজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে মানুষ শহরে আসা থেকে কিছুটা কমবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে। মানুষকে সচেতন করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরপরও তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। যদি এই অবস্থার পরিবর্তন না হয়, তাহলে পুনরায় বৈঠক করে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। কুরবানির ঈদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই পশুরহাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া ঘরমুখো মানুষের প্রতি আলাদা পদক্ষেপ নেয়া হবে। যাতে করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা না বাড়ে। করোনায় বন্যা দেখা দিলে পিরোজপুরের সাতটি উপজেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে দুই লাখ ৩২ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিতে পারবে। অন্যান্য বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও এ বছর করোনাকালে পরিস্থিতি ভিন্ন। সবার মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে এবছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দুর্যোগে মানুষ আহত হলে তাদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তবে অবস্থা বুঝে মেডিকেল টিমের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য চারটি বেড দিয়ে আইসোলেশন ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। এসব রোগী চিকিৎসার করার জন্য জেলা হাসপাতালের চারজন চিকিৎসক নিয়ে গঠন করা হয়েছে র‌্যাপিড রেসপন্স টিম। করোনায় সকল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা প্রশাসক।

এস এম অজিয়ার রহমান, জেলা প্রশাসক (বরিশাল) : বরিশাল জেলায় করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার আগে থেকেই কঠোর অবস্থানে মাঠে নামে জেলা প্রশাসন। পশুরহাটে সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকবে তারা। করোনা শনাক্তের পর সম্পূর্ণ বরিশাল জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই অদ্যাবধি জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ ছিলো চোখে পড়ার মতো। বরিশালবাসীকে নিরাপদে রাখতে তাদের একীভূত কার্যক্রম দৃশ্যমান ও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। নাগরিক সমাজে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে প্রশাসনিক কর্তব্যের বাইরে গিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সরব ভূমিকায় থাকতে দেখা গেছে। তবে এসব কার্যক্রমে নগরবাসীর প্রথম শ্রেণির মানুষের মধ্যে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি শুরুর সময় থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনগণকে সচেতনতার বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়ার রহমান। তিনি বলেন, পৃথিবীর কেউই এখনো জানেন না বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে কার্যকর করণীয় কি হতে পারে। সংক্রমণ রুখতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তিনি আরও জানান, লকডাউন উপেক্ষা করে নদীপথে কিছু মানুষ ঢুকছে। সেটা প্রতিহত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা সবচেয়ে মুখ্য ব্যাপার। আইন বা পুলিশের ভয় দেখিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। লকডাউন কার্যকর করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, লকডাউনের পূর্বে কিছু মানুষ বাইরে থেকে বরিশালে প্রবেশ করেছে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি। তাদের কোয়ারান্টাইনে রাখার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা সবসময় মানুষের পাশে থাকবো। কিন্তু সবার প্রতি অনুরোধ- দয়া করে সবাই ঘরে থাকুন। এই যুদ্ধে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে যদি ব্যক্তিগতভাবে নিরাপদ থাকা যায়। ঈদের সময় ঢাকা এবং অন্যান্য জেলা থেকে এখানে মানুষজন আসেন। তাদের স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া নিয়ম মেনে চলাফেরা করতে হবে। শুধু বরিশালকে নিয়ন্ত্রণ করলে হবে না। ঢাকার সদরঘাট নিয়ন্ত্রণ না করলে বরিশালে রোগী বৃদ্ধি পেতে পারে। এটা যদি আমরা সম্মিলিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি তাহলে সামনে ভয়ানক দিন অপেক্ষা করছে। কুরবানির পশুর হাটের ব্যাপারে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে এবারের পশুরহাট পরিচালনা বিগত দিনের মতো হবে না। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই আমরা পশুরহাট ব্যবস্থাপনা নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। এ ব্যাপারে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই যথাযথ পদক্ষেপ সবার নজরে আসবে।

মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক, জেলা প্রশাসক (ভোলা) : করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভোলা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয় এবং হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ ১০টি স্থানে স্বয়ংক্রিয় জীবাণুনাশক কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। জেলার হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের জন্য সুরক্ষাসামগ্রী দেয়া হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কুরবানির পশুরহাট বসানো হবে। তবে জেলার বাইরে থেকে যারা আসবেন তাদের বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নেবেন বলে জানা গেছে।
ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে যারা কাজ করবে তাদের সুরক্ষার জন্য এসব স্বয়ংক্রিয় জীবাণুনাশক কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ভোলার সাতটি উপজেলার ওয়ার্ডভিত্তিক ৪৩টি নির্দিষ্ট এলাকাকে রেড জোন এবং ১১টি নির্দিষ্ট এলাকাকে ইয়োলো জোন ঘোষণা করার পর অনেকটাই করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ওইসব এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্পপরিসরে চলাচল করতে বলা হয়েছে। ওইসব স্থানে লকডাউন চলাকালে কঠোর বিধি-নিষেধের আওতায় থাকবে বলে জানান তিনি।
এসব এলাকার মানুষ জরুরি প্রয়োজনে বের হলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও যথাযথভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। এছাড়া গণজমায়েত করা যাবে না।

মোস্তাইন বিল্লাহ, জেলা প্রশাসক (বরগুনা) : করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে কুরবানির হাট এখন অনলাইনে। ঘরে বসে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। খামারিদের মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলেই নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছে যাবে গরু। এছাড়া করোনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশক স্প্রে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। কর্মহীন মানুষের জন্য দেয়া হয়েছে খাদ্যসামগ্রী। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দেয়া হয়েছে ঈদ উপহার। এসব তথ্য জানান বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

তিনি বলেন, করোনাযোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বরগুনা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিপিই মাস্ক, হ্যান্ড গ্লোভস, অটোমেটিক সু ডিসপেনসার ও স্পর্শবিহীন থার্মোমিটার ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং জীবাণুনাশক সরঞ্জাম দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বরগুনা জেলার করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা করা হয়েছে। খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, পাঁচ কেজি আলু, এক কেজি মসুর ডালসহ হাত ধোয়ার জন্য একটি বল সাবান বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বরগুনা জেলার কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে করোনা আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ১০ লাখ টাকা সাহায্যের জন্য প্রদান করেছেন। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত দুই লাখ টাকার মানবিক ত্রাণ সহায়তা করা হয়েছে। ৫৪ হাজার ৬১৮ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি করে মাসে ৩০ কেজি চাল দেয়া হয়েছে এবং ওএমএসের আওতায় পৌরসভায় এলাকায় বসবাসরত ৯ হাজার পরিবারকে মাসে ১০ কেজি করে দুইবারে মোট ২০ কেজি চাল দেয়া হয়েছে।

মীর নাহিদ আহসান, জেলা প্রশাসক (মৌলভীবাজার) : পশুরহাট নিয়ে সরকারের সরাসরি যে নির্দেশনা রয়েছে সেটি আমরা মাঠপর্যায়ে জানিয়ে দিয়েছি। তার মধ্যে এবার পশুরহাট স্বাস্থ্যবিধি মেনে করতে হবে এবং কোনোভাবেই পশুরহাটের সংখ্যা বাড়ানো যাবে না বরং সীমিত রাখতে হবে। যে কয়টি পশুরহাট হবে সেটি আরও সম্প্রসারিত করতে হবে। একটি মাঠের জায়গা তিনটি মাঠে ছড়িয়ে দিতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের একদিক দিয়ে প্রবেশ আরেক দিক দিয়ে বের হতে হবে। এ ধরনের অসংখ্য নির্দেশনাই রয়েছে। এসব নির্দেশনা হাট কর্তৃপক্ষসহ জনসাধারণকে জানানো এবং বাস্তবায়ন দুটি কাজই করে যাচ্ছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন। শুরু থেকেই করোনা মোকাবিলা যেভাবে করে যাচ্ছে সেভাবেই কুরবানির পশুরহাট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণেও জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের নেতৃত্বে কাজ করছে এই জেলা প্রশাসন।

সম্প্রতি আমার সংবাদকে মুঠোফোনে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, স্থাস্থ্যবিধি মানতে হবে, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে, স্যানিটাইজার ব্যবস্থা রাখতে হবে পশুরহাটগুলোতে। এরকম বিভিন্ন যেসব বিষয়গুলো আছে সেগুলো আমরা জানিয়েছি। পাশাপাশি আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজারের জন্য অনলাইনে একটি ট্রান্সফর্ম করেছি। এরকম বিভিন্ন জেলায়ও হচ্ছে। অনলাইন হাট থেকে গরু ক্রয় করার জন্য আমরা বিভিন্ন উপজেলায় মানুষকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। এরপরও যে হাটগুলো বসবে সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানছে কি মানছে না এগুলো নিশ্চিত করা হবে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে- এমনটাই জানান তিনি।

মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা প্রশাসক (হবিগঞ্জ) : করোনা সংকটের মধ্যেই আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন। শুরু থেকেই এ জেলার প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের নেতৃত্বে করোনা সংকট মোকাবিলা করে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। আসন্ন ঈদুল আজহায়ও পশুরহাট নিয়ন্ত্রণসহ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বেশকিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে আমার সংবাদকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, হবিগঞ্জ জেলায় এবার ১৩টি স্থায়ী হাট ও ৫০টি অস্থায়ী হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ হাটগুলোতে প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার পথ আলাদা করা হয়েছে। এছাড়া মাস্ক ছাড়া কাউকে হাটে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। তিনি জানান, হাটগুলোর প্রবেশপথেই হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইজারাদারদের আমরা বলে দিয়েছি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে। এছাড়া হাটে গরুর সারিগুলোকে মিনিমাম ছয় ফুট দূরত্বে করতে হবে বলেও তাদের নির্দেশনা দিয়েছি।
সবশেষ তিনি বলেন, অন্যান্য জেলার মতো এবার হবিগঞ্জেও অনলাইনে পশুরহাটের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, জেলা প্রশাসক (সুনামগঞ্জ) : চলমান করোনা সংকটের মধ্যেই সুনামগঞ্জ জেলায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুরহাটগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বসাতে হবে বলে ইজারাদারদের জানিয়ে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। আমার সংবাদকে গতকাল মুঠোফোনে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, যারাই হাট ইজারার জন্য আবেদন করবে তাদেরই আমরা স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলে দিচ্ছি। করোনার কারণে হবিগঞ্জে হাটের সংখ্যা বাড়বে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোট ছোট পরিসরে হাটের আয়োজন করা হবে। যে কারণে চাহিদা অনুযায়ী হাটের সংখ্যাও বাড়বে। এছাড়াও হাটগুলোতে অন্যান্য সরকারি যেসব নির্দেশনা রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্যও বলা হচ্ছে। জনসাধারণের সচেতনতার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

এছাড়া শুরু থেকেই করোনা সংকট মোকাবিলা করে আসছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

আনার কলি মাহবুব, জেলা প্রশাসক (শেরপুর) : করোনা সংকটের মধ্যেই কুরবানির পশুরহাট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে শেরপুর জেলা প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চেয়ে শেরপুর জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় আমার সংবাদের। তিনি আমার সংবাদকে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে বলেন, করোনাকালীন সময়ে পশুরহাট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আমাদের একাধিক পদক্ষেপ রয়েছে, আমাদের নির্দেশনা ছিলো অনলাইন গুরুর হাট- সেটা আমরা চালু করেছি। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং খামারিসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সমন্বয়ে আমরা অনলাইনে বেচাকেনার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও যে হাটগুলো বসবে, সেখানে আমরা পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো নিশ্চিতের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিকিকিনি করবে ত্রেতা-বিক্রেতারা, সে বিষয়গুলো আমরা শেরপুর জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছি। এখানে আইনশৃঙ্খলার বিষয়েও আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা আছে। তিনি বলেন, সুস্থ গরু যেন হাটে আসে সেজন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগের টিম সব সময় হাটে থাকবে। সবমিলিয়ে আমরা এ পদক্ষেপগুলো নিয়েছি। এটার ভালো ফলও আমরা পাচ্ছি। মানুষজন উপকৃতও হচ্ছে।

মো. মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক (ময়মনসিংহ) : পশুর হাটগুলোতে যাতে মানুষের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকে সেটা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিটি পরিবার থেকে যেন হাটে অতিরিক্ত মানুষ না আসে এজন্য প্রচারণা চলমান রয়েছে। পশুর হাটগুলো কোনোভাবেই রাস্তার পাশে বসতে পারবে না। কুরবানি যেখানে হবে এর আশপাশের মানুষ যেন সামাজিকভাবে দায়িত্ব নিয়ে মাংস বিতরণ করেন। তা না হলে মাংস নিয়ে এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ায় যাওয়া-আসা করবে। এতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে- আমার সংবাদকে কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, হাট ইজারাদারদের আমরা নির্দেশনা দিয়েছি- হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, মাস্ক বিক্রি এবং ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পশুগুলো দূরে দূরে রাখার জন্য বলা হচ্ছে। আমরা হাটগুলোকে বড় বড় জায়গায় স্থানান্তর করেছি। সবমিলিয়ে ময়মনসিংহে হাট এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের কাজটি ভালোভাবেই চলছে বলে জানান তিনি।

মোহাম্মদ এনামুল হক, জেলা প্রশাসক (জামালপুর) : জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক। শুরু থেকেই তিনি তার গোটা জেলা প্রশাসন নিয়ে করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি আমার সংবাদ কথা বলে তার সঙ্গে।

করোনা ফাইটার জামালপুর জেলার এ অভিভাবকের কাছে জানতে চাওয়া হয়- করোনার মধ্যেই আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে করোনা সংক্রমণ যাতে বাড়তে না পারে সে বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন আপনারা? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা একটা মোবাইল অ্যাপও তৈরি করেছি, হাটে না গিয়ে অনলাইনে বেচাকেনার জন্য। খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সেই অ্যাপসে তাদের ঠিকানা, ফোন নম্বর- যা যা প্রয়োজন তার সবই আমরা দিয়েছি এবং তা প্রচারও করছি। মানুষ টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে যেনো বেচাকেনা করতে পারে। আমাদের যে হাটগুলো রয়েছে সেগুলোতে যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয় সেগুলোও আমরা নিশ্চিত করছি। যারা ইজারাদার আছেন এবং হাট সংশ্লিষ্টরা যেনো সেটি বাস্তবায়ন করেন তা নিশ্চিত করছি বলেও জানান তিনি।

মঈনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক (নেত্রকোনা) : পশুরহাট যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন বলে আমার সংবাদকে জানিয়েছেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মঈনুল ইসলাম। হাটে জনসমাগম যাতে আগের মতো না হয় সেজন্য যে পদক্ষেগুলো প্রয়োজন সেগুলোই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকারের নির্দেশনা যেগুলো আছে, নেত্রকোনা জেলায় সেগুলো শতভাগ প্রতিপালন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালনের জন্য নির্দেশনা আমরা দিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা দু-একদিনের মধ্যেই ইজাদারদের সঙ্গে বসে এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন। যেহেতু ইজারার কাজটি উপজেলা নির্বাহী অফিসাররাই করেন। এর বাইরেও আমরা অনলাইন পশুরহাটে জনসাধারণকে উৎসাহিত করছি। এটা আমাদের জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং আমাদের তরফ থেকেও সমন্বয় এবং বাস্তবায়নের কাজটি করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে মঈনুল ইসলাম বলেন, হাটে প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার জন্য থাকতে হবে সম্পূর্ণ আলাদা পথ। প্রবেশপথে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। মাস্ক ছাড়া কেউ হাটে ঢুকতে পারবে না। বৃদ্ধ এবং অল্প বয়স্ক ও অসুস্থরা কেউ হাটে আসতে পারবে না। এছাড়া হাট পরিষ্কার রাখার জন্য আমাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক থাকবে, সাথে ইজারাদারদের স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবখানেই নির্দেশনার লিখিত কপি ইতোমধ্যেই পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে আমার সংবাদকে জানিয়েছেন তিনি।

 আমারসংবাদ/বিবি