শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২০

২২ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

আসাদুজ্জামান আজম

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ২৯,২০২০, ১২:৩০

জুলাই ২৯,২০২০, ১২:৩৪

কুরবানির পশুর চামড়া: পাচার রোধে কঠোর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

দেশের চামড়াশিল্পের প্রায় ৬৫ শতাংশ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ হয়ে থাকে কুরবানির ঈদে। কিন্তু ঈদকেন্দ্রিক প্রতি বছর চামড়া নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মৌসুমি ব্যবসায়ী অপতৎরতায় মেতে উঠে। তাদের খপ্পরে পড়ে চামড়া ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত হয় এবং পার্শ্ববর্তী দেশে চামড়া পাচার হয়ে যায়। এবার চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত ও পাচার রোধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ঈদের দিন থেকে দেশব্যাপী কঠোরভাবে বিষয়গুলো মনিটরিং করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত মনিটরিং টিম। পাচার রোধ এবং শিল্পবিকাশে এবার প্রয়োজনে কাঁচা চামড়া ও ওয়েস্ট ব্লু চামড়া রপ্তানি করার ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা চামড়ার মূল্য এবং বাণিজ্য সংগঠন, ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সাথে পরামর্শ করে চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার দর, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা, করোনা পরিস্থিতিতে চাহিদা, বাংলাদেশের চামড়ার গুণগতমান, স্থানীয় চাহিদা ও মজুত পরিস্থিতি বিবেচনা করে কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বছর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার মূল্য ঢাকায় গরু প্রতিবর্গফুট ৩৫-৪০ টাকা, ঢাকার বাইরে ২৮-৩২ টাকা, খাসি সারা দেশে ১৩-১৫ টাকা এবং বকরি সারা দেশে ১০-১২ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, নির্ধারিত মূল্যে ক্রয়-বিক্রয়সহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য সকল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলাপর্যায়ে মনিটরিং করবে। জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, বেতার, কমিউনিটি রেডিওতে প্রচারণা চালানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এছাড়া, ফেসবুক-ইউটিউবে ১০ লাখ মানুষের কাছে ভিডিও বার্তা প্রেরণ এবং পর্যাপ্ত হ্যান্ডবিল বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চামড়া সংগ্রহে প্রয়োজন হয় লবণের। এজন্য পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশের মোট চাহিদার সিংহ ভাগ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয় পবিত্র ঈদুল আজহার সময় এবং প্রাপ্ত কাঁচা চামড়ার সাথে একদিকে যেমন দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষ করে এতিমখানা, মসজিদ ও মাদ্রাসা জড়িত, তেমনি এ কাঁচা চামড়া রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল। তাই এর উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করা হয়।

শুধু চামড়াশিল্প নয়, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে নিরলস কাজ করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েও থেমে থাকেননি। করোনামুক্ত হয়ে পুরোদমে মন্ত্রণালয়ের কাজ শুরু করেছেন। ২০২০-২১ অর্থবছরের ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

করোনা-পরবর্তী বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলাদেশ কিভাবে সুযোগ নিতে পারে, তার রূপকল্প করছেন তার নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। করোনা  পরিস্থিতিতে এবং পরবর্তী সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববাণিজ্য সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এ টাস্কফোর্স কাজ করে যাচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি খাতে ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সেবা রপ্তানি খাতে সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

পণ্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে পণ্য রপ্তানি খাতে ২১.৭৫ ভাগ এবং সেবা রপ্তানি খাতে ৯.৪৬ ভাগ। বিশ্ববাণিজ্যের সামপ্রতিক গতিধারা, দেশীয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ এর প্রভাব প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত লক্ষাধিক কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা, রপ্তানি সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য ও সেবা খাতের বিকাশ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্সের পর্যালোচনা মোতাবেক গৃহীত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপসহ গত বছরের রপ্তানি খাতে অর্জিত প্রবৃদ্ধির গতিধারা পর্যালোচনা করে এ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

করোনা-পরবর্তী বিশ্ববাণিজ্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, করোনার কারণে বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্য বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশও তা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিলো।

বাংলাদেশ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কোভিড-১৯ শেষ হওয়ার পর আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াবো, আমরা সেটা পারবো। কোভিড-১৯ পরবর্তী বিশ্ববাণিজ্যের সুযোগ কাজে লাগানোর সময় এসেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি এবং সফল হবো ইনশাল্লাহ।

আমারসংবাদ/এআই