শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২০

২২ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

নুর মোহাম্মদ মিঠু

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ২৯,২০২০, ১২:৩৩

জুলাই ২৯,২০২০, ১২:৩৩

করোনার থাবা জেলা প্রশাসনেও

দেশপ্রেম আর মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসন করোনা মোকাবিলায় রয়েছে অনড় অবস্থানে। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করেই অনুপ্রেরণার মূল উৎস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় করোনাকালে দেশের মানুষের জন্য পৃথকভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিটি জেলা প্রশাসন।

জনসাধারণকে করোনা থেকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি জীবনমান ঠিক রাখার জন্যও প্রতিটি জেলা প্রশাসনের প্রধান— জেলা প্রশাসকরা গ্রহণ করছেন নানামুখী উদ্যোগ। সেসবের বাস্তবায়ন কাজ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্তও হয়ে পড়ছেন কেউ কেউ। কিন্তু দৃঢ় মনোবল আর দেশ ও মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ জেলা প্রশাসকরা করোনা ঝুঁকিকে উপেক্ষা করেই কাজ করে যাচ্ছেন।

এমনই একজন জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি। তিনি টাঙ্গাইলের বর্তমান জেলা প্রশাসক। গত ৮ জুলাই টাঙ্গাইলের ৩৭তম জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অদ্যাবধি করোনা মোকাবিলায় কাজ করে গত সোমবার জানতে পারেন, তিনি নিজেও করোনায় আক্রান্ত।

মেধাবী, বিচক্ষণ সাহসী ও দায়িত্ব পালনে দৃঢ়চেতা এই জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি বর্তমানে সরকারি বাসভবনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা চিকিৎসক-নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও বাংলাদেশ পুলিশের পাশপাশি জেলা প্রশাসনও একই কাতারে থেকে লড়ছে করোনার বিরুদ্ধে।

করোনাযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণেই এ ভাইরাসের থাবায় আক্রান্ত হয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম ও গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আবুল কালাম। করোনা জয় করেই ফের করোনা বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন তারা।

এদিকে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণিসহ জেলায় আরও ৫১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে টাঙ্গাইলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ৫১৫ জন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি নিজেই তার করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে তিনি সরকারি বাসভবনে চিকিৎসাধীন আছেন।

জেলায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ২৯ জন, নাগরপুরের দুই, মির্জাপুরের তিনজন, বাসাইলের সাতজন, কালিহাতীর সাতজন, ভূঞাপুরের একজন ও ধনবাড়ি উপজেলার তিনজন রয়েছেন। শুধু তাই নয়— জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সঙ্গে করোনা যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আরও  ১২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এর আগে গত দুদিন আগে জেলা প্রশাসক আতাউল গণির সঙ্গে কথা হয় আমার সংবাদের। বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেয়া করোনা সংকটের মধ্যেই আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুরহাট ও জনসমাগমের কারণে সংক্রমণ আরও অধিক বাড়তে পারে এমন শঙ্কায়— পশুর হাট ও জনসমাগমসহ সার্বিক বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন তিনি।

তিনি আমার সংবাদকে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতি ও অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় সীমিত আকারে হাটের ইজারা দেয়া হচ্ছে, পাশাপাশি অনলাইন পশুরহাটে পশু ক্রয়-বিক্রয়েও উৎসাহিত করা হচ্ছে মানুষকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে হাট-বাজারের বিষয়ে যে নির্দেশনা আছে সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতেও কাজ করছিলেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণসহ হাটে সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধিসহ যে কয়টি বিষয় রয়েছে সবকটি বিষয় নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতও চালু করেন তিনি।

মাস্কসহ সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যাতে হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। একই সাথে অনলাইনে পশু কেনাবেচায় মানুষকে উৎসাহিত করছেন। জনগণকে সুরক্ষিত রাখার কাজটি করতে গিয়েই আজ তিনিও করোনায় আক্রান্ত।

আমারসংবাদ/এসটিএম