বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০

৫ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

জাহাঙ্গীর আলম

প্রিন্ট সংস্করণ

সেপ্টেম্বর ২৪,২০২০, ১২:৪১

সেপ্টেম্বর ২৪,২০২০, ১২:৪১

প্রণোদনায় চাঙ্গা অর্থনীতি

পুরোদমে শুরু মেট্রোরেলসহ বড় প্রকল্পের কাজ

কুরবানি ঈদ থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। আগের মতোই প্রতিদিন আমরা যার যে ডিউটি মেট্রোরেলে কাজ করছি। সিকিউরিটির দায়িত্বে নিয়োজিত জুয়েল এভাবে করোনা ভাইরাসের প্রকোপভেদ করে বর্তমানে উন্নয়ন কাজ করার কথা জানান।

অন্যদিকে রাজধানীর মতিঝিলের স্বপন স্টেশনারীর আলম বলেন, আগের মতোই বেচাবিক্রি হচ্ছে। করোনার ভয় তেমন নেই মানুষের মধ্যে।

কাপড় ব্যবসায়ী আবুল হাসানও বলেন, করোনায় কোনো কিছু থেমে নেই। সমানে বাবুরহাট, ইসলামপুর থেকে সারা দেশের মানুষ কাপড় এনে বেচাবিক্রি করছে। মিডলাইন পরিবহনের ড্রাইভার ছোটন বলেন, দেখেন কতো জ্যাম। গাড়ির চাকা নড়ে না। বর্তমানে রাস্তাঘাটের এ অবস্থা। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ী স্বাভাবিকভাবে চালাচ্ছেন অফিস।

করোনা ভাইরাসের থাবায় গত মার্চে বাংলাদেশে সবকিছু থমকে গেলে তা থেকে রক্ষা পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে এসব প্রণোদনা ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

ফলে উন্নয়ন কাজেও গতি ফিরে এসেছে। মেট্রোরেলসহ সরকারের বড় বড় প্রকল্প পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। করোনার মধ্যেও প্রবাসীরা বেকর্ড পরিমাণ রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে। রপ্তানি আয়ও রেকর্ড ছাড়িয়েছে গত দুমাসে। ঋণ আদায় হওয়ায় খোলাপি ঋণও কমছে।

দেশের এমন পরিস্থিতি দেখে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও প্রাক্কলন করেছে, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি হবে। শীতে দ্বিতীয়বারের মতো করোনার প্রকোপ বাড়লেও লকডাউন না করে অর্থনীতিকে সচল রেখে সবাইকে চলতে হবে বলে গত মঙ্গলবার আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় বলা হয়েছে।  
 
সব জায়গায় স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু
করোনার প্রকোপ ঠেকাতে সরকার ছুটি ঘোষণা করলে তিন মাসেরও বেশি সময় বন্দি থাকে মানুষ। ছুটি তুলে নেয়ার পর গলির দোকান থেকে শুরু করে বড় শিল্প-কারখানা— সবই এখন চালু হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি, উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পরিবহন চলাচল আবার স্বাভাবিক হচ্ছে।

গত ৩ আগস্ট সাধারণ ছুটি তুলে নেয়ার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। মানুষ স্বাভাবিক সময়ের মতো ঘর থেকে বের হচ্ছে। কাজ করছে। রাজধানী ঢাকাসহ অন্য শহরগুলো আগের চেহারায় ফিরেছে। সড়কে যানজট দেখা যাচ্ছে।

মোহাম্মপুর-খিলগাঁও রুটের মিডলাইন পরিবহনের ড্রাইভার বলেন, সড়কে আগের মতোই যানজট শুরু হয়েছে। বিরক্ত লাগছে। ৫ ট্রিপের পরিবর্তে ২ ট্রিপ চলে। করোনা আছে বলে মনে হয় না।

তিনি আরও বলেন, আগের মতো গুলিস্তান, নিউমার্কেটসহ সব ফুটপাতেও বসছে দোকান। সব গাড়ি চলছে। চায়ের স্টল, কফি শপ, হোটেল-রেস্তোরাঁ চালু হয়েছে পুরোদমে। কক্সবাজারসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়ায় বাড়ছে ভিড়। মানুষ বেশি করে সড়কে চলাচল করছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারির প্রকোপ বাংলাদেশেও মার্চে হানা দেয়। প্রকোপ ঠেকাতে বাধ্য হয়ে সরকার ছুটি ঘোষণা করে সবচাইকে ঘরে থাকতে বলে। ফলে শিল্পোৎপাদন, যানবহন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এতে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত তথা সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়। মানুষের আয় কমে যায়। বাড়তে থাকে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য।

এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী এপ্রিলে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও কুটিলশিল্প, কৃষি খাতে এক লাখ তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা ঘোষণা করেন। এসব প্রণোদনা কম সুদে কার্যকর করতে অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়িত্ব দিলে বিভিন্ন সার্কুলার জারি করে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দায়িত্ব দেয়। এছাড়া ঋণের কিস্তি স্থগিতসহ বিভিন্ন সুযোগও দেয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ফলে অর্থনীতিও জেগে উঠেছে। স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকাও আবার ঘুরতে শুরু করেছে। পেঁয়াজসহ আমদানিপণ্যভর্তি জাহাজ অল্প সময়ের মধ্যে ভিড়ছে বন্দরে। আবার অনেক জাহাজ রপ্তানিপণ্য নিয়ে বন্দর ছেড়ে যাচ্ছে বিদেশে। করোনার আগের মতো সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে, সেটা বলা পুরোপুরি সঠিক হবে না। অর্থনীতি পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে আরও সময় লাগবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর আমার সংবাদকে বলেন, রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স ভালোই  এসেছে অর্থবছরের প্রথম দুমাসে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে অর্জন। এটা ভালো দিক।

তবে অক্টোবরে আসল চিত্র দেখা যাবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। ধকল কেটে তারা পুরোদমে ব্যবসা করতে পারছে। বড় বড় ঋণ প্যাকেজের ৭০ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে। তবে কৃষি এবং এসএমই ঋণের গতি ধীর। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হঠাৎ থমকে যাওয়া অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তবে আগের মতো স্বাভাবিক হয়নি। ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশে পৌঁছা সম্ভব হয়েছে। পুরোপুরি হতে আরও একটু সময় লাগবে। করোনা থাকলেও লকডাউনে যাওয়া সম্ভব না। পৃথিবীর কোথাও নেই। সাবধানে ও সিস্টেমে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এই-সেই হাসপাতালে ঘুরে যাতে কেউ মারা না যায় সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। তবেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে অর্থনীতিও আগের জায়গায় ফিরে আসবে।

অর্থনীতির সার্বিক ব্যাপারে বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির (ইএবি) সভাপতি, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, কর্মস্থল ভালো না থাকলে মানুষ বাঁচবে না। আবার অর্থনীতির চাকা না ঘুরলেও মানুষ বাঁচবে না। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দূরদর্শিতা ও যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে করোনার প্রকোপ ঠেকাতে ছুটি দিলেও বিভিন্ন প্রণোদনার প্যাকেজ সুবিধা দিয়েছেন। এ জন্য ধন্যবাদ সরকারপ্রধানকে। হতাশ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ছোট-বড় সবাই আস্থা ফিরে পেয়েছি। করোনার ধকল সামলানো সম্ভব হয়েছে। রপ্তানি বাড়ছে। রেমিটেন্সও আসছে বেশি।

এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। পুরোপুরি হতে আরও একটু সময় লাগবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচেতনভাবে জীবনযাপন করতে হবে। আশা করি অর্থনীতির চাকা ঘুরে দাঁড়াবে আগের মতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, অর্থনীতির গতি ফেরাতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজকে কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক খুবই তৎপর। বিভিন্ন প্যাকেজের সার্কুলার জারি করা হয়েছে। প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো যাতে কোনো ধরনের সংকটে না পড়ে সে জন্য বাজারে তারল্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের উপকার হওয়ায় তারা আগ্রহ নিয়ে এ ঋণ গ্রহণ করছেন। ঋণ বিতরণ বাড়ছে। আদায়ও বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের জন্য ৩৩ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের মধ্যে প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ৭৮ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। দুই হাজার ৮৪ জন উদ্যোক্তাকে এই ঋণ দেয়া হয়েছে। এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের পাঁচ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারের মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

 এছাড়া কুটিরশিল্পসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের মধ্যে দুই হাজার ৬৩১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন প্যাকেজের ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। যেসব ব্যাংকের ঋণ কম তাদের তাগিদ দেয়া হচ্ছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই মুখপাত্র বলেন, করোনার ধকল সামলাতে কৃষি খাতের উন্নয়নে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময়সীমা ছিলো ৩০ সে?প্টেম্বর পর্যন্ত। চুক্তিবদ্ধ ৪৩টি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৪৫ হাজার কৃষককে এ পর্যন্ত প্রায় ১২শ কোটি টাকা ঋণ বিতণ করা হয়েছে।

কৃষিঋণ কম বিতরণ হওয়ায় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। আশা করি ওই সময়ে পুরোটাই বিতরণ করা হবে। সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সার্কুলার পাঠানো হয়েছে। ১৮ মাস (৬ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ) মেয়াদি এ ঋণের সুদহার চার শতাংশ।

জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান আমার সংবাদকে বলেন, করোনার ধাক্কা অতিক্রম করে অর্থনীতি পুরোপুরি আগের কাছাকাছি চলে এসেছে এটা বলা যাবে না। তবে সবকিছু মোকাবিলা করে ভালোই এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের অর্থনীতি।

মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এটা সবাই দেখতে পাচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে উন্নয়ন কাজের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার বর্তমান সরকারের ৯ম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

জিডিপির প্রবৃদ্ধি ভালোই হবে
অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের রেমিটেন্সের অবস্থা অত্যন্ত ভালো, দুমাসে (জুলাই-অগাস্ট) ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রপ্তানিবাণিজ্য পুনরায় আশানুরূপ অবস্থানে আসতে শুরু করেছে। তাই আশা করা যায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রাক্কলন অনুযায়ী ৮ দশমিক ১ শতাংশ বা ৮ দশমিক ২ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

মুস্তফা কামাল আরও বলেন, এডিবি পূর্বাভাসে বলেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি এ অঞ্চলে চীন ও ভারতের পরই অবস্থান করছে। যেখানে কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডের কারো অবস্থান বাংলাদেশের উপরে নয়। আশা করা যায়, এই অর্থবছরেও এশিয়ার মধ্যে আমাদের অবস্থান সবার উপরে থাকবে।

করোনার মধ্যেও প্রবাসী আয় ও রেমিটেন্সে রেকর্ড
করোনায় সারা বিশ্বে টালমাটাল অর্থনীতি। অপরদিকে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে সরকার গত অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৪৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে বাংলাদেশে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গত ৩০ জুন মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ৩০ লাখ (১৮.২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। এদিকে রপ্তানি আয়ও ভালো করেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ৬৮১ কোটি ডলারের মধ্যে অর্জন হয়েছে ৬৮৮ কোটি ডলার। বেশি অর্জন ১ শতাংশ। আর প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ১৭ শতাংশ। পোশাকশিল্পের আয় বেশি হওয়ায় এটা সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া কৃষিপণ্য এবং পাট ও পাটজাতপণ্যেও রপ্তানি আয় ভালো হয়েছে জুলাই-আগস্টে। এজন্য রিজার্ভও বাড়ছে তরতর করে। গত ১ সেপ্টেম্বর অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।

৬.৮% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এডিবির
এদিকে মহামারির ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর কথা এশীয় ?উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি দেয়ার পর অর্থমন্ত্রীর এ আশাবাদ প্রকাশের খবর জানিয়ে গত মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এসেছে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। এডিবির ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের সেপ্টেম্বর আপডেটে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির আভাস দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে এডিবি বলছে, উৎপাদনের গতি বাড়ায় এবং বাংলাদেশি পণ্যের ক্রেতা দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

বছরে কমেছে খেলাপি ঋণ
কন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিলো ১০ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপির পরিমাণ ৯২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

এ হিসাবে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে তিন হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপির পরিমাণ ছিলো ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ছিলো এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। সেই হিসাবে গত বছরের জুনের তুলনায় এ বছর জুনে, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খেলাপিঋণ কমেছে ১৬ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে। এ সংকটকালে ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দেয় সরকার। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিস্তি না দিলেও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে হবে না।

বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলেও বিশেষ ছাড়সহ নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। করোনা ভাইরাসের কারণে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঋণ শ্রেণিকরণে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মহামারির প্রকোপ দীর্ঘায়িত হওয়ায় আরও তিন মাস বর্ধিত করে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। অর্থাৎ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো ঋণের শ্রেণিমান পরিবর্তন করা যাবে না। যে ঋণ যে শ্রেণিতে আছে, সে অবস্থাতেই থাকবে।

এ জন্য কমছে খেলাপি ঋণ। এর আগে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমাতে সরকারের নির্দেশনায় পুনঃতফসিলে গণছাড় দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পেয়েছে ঋণখেলাপিরা।

আমারসংবাদ/এসটি