শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২০

৯ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

নুর মোহাম্মদ মিঠু

প্রিন্ট সংস্করণ

অক্টোবর ১৭,২০২০, ০৫:১৬

অক্টোবর ১৭,২০২০, ০৫:১৬

রপ্তানি প্রক্রিয়ায় চোরাচালান বৃদ্ধির আশঙ্কা

বিমানবন্দরে দুই সংস্থার সমন্বয়হীনতা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবন ও আমদানি কার্গো ভিলেজে দায়িত্ব পালন করতে পারলেও রপ্তানি কার্গো কমপ্লেক্সে তা পারছে না শুল্ক কর্মকর্তারা। যদিও কাস্টম আইন অনুসারে বিমানবন্দরের কাস্টম এলাকায় দায়িত্ব পালনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ঢাকা কাস্টম হাউস।

কাস্টমস হাউস সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহযোগিতা না পাওয়ায় রপ্তানি কার্গো কমপ্লেক্সে ঢুকতে পারছেন না শুল্ক কর্মকর্তারা।

যে কারণে রপ্তানি কার্গো এলাকা কাস্টমসের নজরদারির বাইরে থাকায় মিথ্যা ঘোষণায় রপ্তানি, রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্য রপ্তানি, মুদ্রাপাচারের ঝুঁকি বাড়ছেই। রপ্তানি কার্গো কমপ্লেক্সের স্ক্যানিং মেশিন রুমে শুল্ক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা চেয়ে বিমানবন্দরের পরিচালক ও বেবিচক চেয়ারম্যানকে একাধিকবার চিঠি দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি বলে বলছে ঢাকা কাস্টম হাউস।

গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর বিমানবন্দরের গুদামে আসা একটি তৈরি পোশাকের চালান থেকে গতকাল শুক্রবার সকালে ৩৯ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করার ঘটনার পরই সরকারের এই দুই সংস্থার মধ্যে রপ্তানি কার্গো কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনে সমন্বয়হীনতার তথ্য প্রকাশ্যে আসে।  

জানা যায়, দেশ থেকে সৌদি আরবে আপারিজ ইন্টান্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পোশাক রপ্তানি হচ্ছিল। রাজধানীর খিলগাঁওয় পশ্চিম পাড়ার এস এস ইয়াম অ্যান্ড সমি নামের একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে ৪৩৯টি কার্টনে সোয়েটার পাঠাচ্ছিল। সোয়েটারের তিনটি কার্টন থেকেই ৩৯ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

যার বাজারমূল্য এক কোটি ১৬ লাখ টাকা। সোয়েটারের কার্টনে ইয়াবার অস্তিত্ব টের পেয়ে এভিয়েশন সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ কাস্টমসের সহায়তায় কার্টনগুলোতে তল্লাশি চালায়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে ইয়াবাগুলো বের করা হয়।

কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার সানোয়ারুল কবীর বলেন, ‘বাংলা’ ৪৩৯টি কার্টনের তিনটিতে সোয়েটারের পকেটে ইয়াবার প্যাকেটগুলো পাওয়া যায়। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর এগুলো বিমানবন্দরের গুদামে আসে।

পরে এভিয়েশন সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষের এসব রপ্তানি পণ্যের ব্যাপারে সন্দেহ হলে কাস্টমসের সহায়তায় কার্টনগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে তিনটি কার্টনে ইয়াবা পাওয়া যায়। মূলত গোপন সূত্র থেকে এভিয়েশন সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ ইয়াবার চালানের খবর  পায় বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।  রপ্তানি কার্গো এলাকায় দায়িত্ব পালন নিয়ে শুল্ক কর্মকর্তারা বলছেন, বিমানবন্দরে বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে। বেবিচকের স্ক্যানিং মেশিন অপারেটররা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নজরদারি করেন। কোন চালানে পান আছে, সেটা নিরাপত্তার  দৃষ্টিতে কোনো বাধা নয়, বেবিচকের নিরাপত্তাকর্মীরা তা আটকাবেন না।

কিন্তু সরকার পান রপ্তানি নিষিদ্ধ করলে সে বিষয়টি কাস্টমকে অবহিত করে এবং পান যেনো রপ্তানি না হয়, সেটি মনিটরিংয়ের দায়িত্বও কাস্টমসের। একইভাবে ইলিশ মাছ বেবিচকের নিরাপত্তাকর্মীদের নজরে বিপজ্জনক নয়, তবে রপ্তানি নিষিদ্ধ হওয়ায় তা কেউ রপ্তানি করেছ কি-না, সেটা দেখার দায়িত্ব কাস্টমসের। কিন্তু কাস্টম যদি স্ক্যানিং মেশিন মনিটরিং করতে না পারে, এ বিষয়গুলো নজরদারি সম্ভব হবে না।

এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রপ্তানি পোশাকের আড়ালে মাদক পাচারের ঘটনায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। এছাড়া অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ- আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আরও সতর্ক হতে হবে সরকারের সবকটি সংস্থাকে।

স্বর্ণের চোরাচালান, মাদক আটকের ঘটনা এর আগেও প্রায়সময় বিমানবন্দরে ঘটেছে। মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার ঘটনাও কম নয়। তবে পোশাক রপ্তানির আড়ালে কোকেনের মতো এমফিটামিন জাতীয় মাদক ও ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সব সংগঠনও।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আইন-প্রশাসন সকলে মিলেই জোরালোভাবে আমদানি-রপ্তানির পুরো প্রক্রিয়াতেই নজরদারি বাড়ানো দরকার। পোশাকের চালানে এ ধরনের চোরাচালানের ঘটনায় দেশের ইমেজ সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও বলছেন তারা।  

সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে মাদকদ্রব্য চোরাচালানের বিষয়টি দেশের ব্র্যান্ডিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও কর্মকর্তাদের দক্ষতা এবং দায়িত্ব পালনে প্রতিটি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো না গেলে চোরাচালান আরও বৃদ্ধি পাবে পণ্য রপ্তানি প্রক্রিয়ায়।

আমারসংবাদ/এসটিএম